গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৪ ফ্রেরুয়ারী বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলসপার্ক ময়দানে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবিভূত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে।’তিনি বলেন ‘একটি রাজনৈতিক দল, যাদের অন্য একটি পরিচয় আছে, জনগণ যাদের একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদেরকে কী পরিচয়ে চেনে? গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। আপনারা চেনেন কারা কারা গুপ্ত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত। চেনেন আপনারা। আলহামদুলিল্লাহ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। চিকিৎসা সুবিধা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেয়া হবে। বাংলাদেশের নারী ও যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়ারদের খুজে বের করে ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে আবহমান কাল ধরে, শত হাজারো বছর ধরে নারী-পুরুষ সকলে মিলে মাঠে কাজ করে। বাংলাদেশে যেমন কৃষক ভাইয়েরা কাজ করেন মাঠে, একইভাবে আমরা জানি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষাণী বোনরাও মাঠে কাজ করেন।’ তিনি বলেন, ‘শুধু মাঠেই নয়, বিভিন্ন কল-কারখানায় আমরা দেখেছি আমাদের মায়েরা, বোনেরা, নারীরা তারা পুরুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সমগ্র পৃথিবীতে আমরা গৌরববোধ করি, সেই গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন এই দেশের নারী সমাজ। এই দেশের মা-বোনেরা।’ বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘৫ই আগস্ট পরবর্তীতে আমরা আশা করেছিলাম যে, স্বৈরাচার যারা জনগণের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা যেই ভাষায় কথা বলত জনগণকে, বিভিন্ন বাংলাদেশের সম্মানী গুণী মানী ব্যক্তিকে যেভাবে অপদস্থ করত, যেভাবে মানুষকে তারা ছোট করত, পাঁচই আগস্টে তাদের পালিয়ে যাবার পরে এই রীতি নিশ্চয়ই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দুঃখের সাথে আমরা খেয়াল করলাম যে এই রীতি বন্ধ হয় নাই।’ তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমরা অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে দেখছি, অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে দেখছি এই যে নতুন জালেম, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে। এই জালেমদের নেতা, তিনি দুইদিন আগে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদেরকে নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কিত একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন।’ তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মা-বোনদের প্রতি যে ব্যক্তি বা যেই দলের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই; দেশের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশ কখনো অগ্রগতি আশা করতে পারে না। তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশের মানুষ সম্মানজনক কোনো মর্যাদা পূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।’ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান। বেলা ১টা ৫ মিনিট থেকে প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। তারেক রহমান মঞ্চে আসার আগেই লাখো জনতার উপস্থিতে বিশাল মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী খন্ড খন্ড মিছিলসহ জনসভাস্থলে এসে উপস্থিত হন। জনসভাস্থল পরিনিত জনসমুদ্রে। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, বরগুনা ২ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি, বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ইলেন ভূট্রো, পিরোজপুর ২ আসনের প্রার্থী আহমেদ সুমন সোহেল সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৯ জন বিএনপি প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন তারেক রহমান। অপরদিকে বিএনপি জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি ও ভোলা ১ (সদর) আসনের প্রাথী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী -৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নূরকেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।