বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন দেশের বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচন ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং প্রায় ৩৪ হাজার পঙ্গুত্ববরণকারীর মানুষের ত্যাগের নির্বাচন।’তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরের অন্ধকার জগতের অবসানের পর এই নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের পথরেখা তৈরি করবে।’রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় জামালপুরের সিংহজানি হাইস্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। গুম, খুন, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে একটি অন্ধকার সময় পার করেছে দেশ ও দেশের মানুষ। সেই দুঃসময়কে পিছনে ফেলে জনগণের সামনে এবার সত্যিকারের পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’ ‘এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নির্বাচন,’ বলেন তিনি। জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং যারা আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেয়া যাবে না। জনগণের রায়ের মাধ্যমেই সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি। জামালপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জামালপুরসহ সারাদেশে নির্বাচনী মাঠে জনগণের ব্যাপক এই সাড়া পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সভায় জেলা জামায়াতের আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের আমিরের জনসভাকে কেন্দ্র করে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় জনস্রুতের সৃষ্টি হয়। পরে ডা: শফিকুর রহমান জামালপুরের পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এই দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক।’ তাই তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জেলার পাঁচটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য জামালপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।