আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশবাসীকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যে মানুষগুলো গত ১৬/১৭ বছর যাবৎ প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিবাদ ছিলো-অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এ অধিকারকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে। যে স্বৈরাচার আপনার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দিতে পারেন ধানের শীষে সিল মারার মাধ্যমে।’ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলার বিসিক শিল্প পার্কে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এ আহ্বান জানান। কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বেলা ৩টায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বগুড়া থেকে সড়কপথে সিরাজগঞ্জ পৌঁছান সাড়ে ৩টায়। এ সময় মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে– সে যে ধর্মেরই হোক, বাংলাদেশের নাগরিক। কে কোন ধর্মের– সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের কাছে জাত-পাত মুখ্য নয়। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে সেই বাংলাদেশের মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে চাই। সে কারণেই আমরা যদি দেশে জনগণ শাসন কায়েম করতে পারি, দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, কল্যাণকর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই দেশ এবং জনগণের প্রকৃত যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এখানে বহু কাজ করার আছে। অনেক কাজ করার আছে, সেই কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, যেই কাজগুলো করলে এলাকার উন্নয়ন হবে।’ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মানুষ তার ওপরই ভরসা করে, যারা অতীতে পরীক্ষিত এবং বাস্তবে ভরসার যোগ্য।’ তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি ,আমাদের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে, সকলকে আমাদের একসাথে এখন কাজ করতে হবে, দেশ গঠন করতে হবে। আছেন নাকি আপনারা দেশ গঠনে? আমাদের সাথে আছেন দেশ গঠনে? উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ সময় জনসভা মঞ্চের সামনে থেকে ভেসে আসে ধানের শীষ, ধানের শীষ। তারেক রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।’ সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান, এ অঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে, তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে এ শিল্পের পণ্যসামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি, এ অঞ্চলে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে দেশে নারী ও কৃষকদের সহযোগিতার কথা বলেন তারেক রহমান।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।এতে আরও বক্তব্য দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিম রেজা, ড. এম. এ. মুহিত, এম. আকবর আলী, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, পাবনার শামসুর রহমান, এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, হাসান জাকির তুহিন এবং শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ। সভা শেষে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিএনপির মনোনীত সকল প্রার্থীদের। তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদরের একাংশ): সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ): ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ): মো. আয়নুল হক, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া): এম. আকবর আলী, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী): মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর): ড. এম. এ. মুহিত, পাবনা-১: মো. শামসুর রহমান, পাবনা-২: এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩: হাসান জাকির তুহিন, পাবনা-৪: হাবিবুর রহমান হাবিব, ও পাবনা-৫: শামসুর রহমান শিমুল। উত্তরাঞ্চলে প্রচারাভিযানের তিন’ দিনে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে চারটি নির্বাচনী জনসভা করেন। আজ শেষ দিনে সিরাজগঞ্জের জনসভা এবং টাঙ্গাইল নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে তিন’ দিনে নির্বাচনী জনসভার।