বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে আছি, আবার নতুন করে গণতান্ত্রিক একটা পদ্ধতিতে আমরা ফিরে যাব, কিন্তু গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে জনগণ। যদি জনগণের কল্যাণ আমরা সাধন করতে না পারি, তাহলে এই গণতন্ত্রের বুলি আমরা যতই বলি না কেন- এটা দিয়ে কিন্তু দেশের মানুষ সন্তুষ্ট হবে না। তিনি বলেন, কাগজে কলমে কী করলাম, রিফর্ম (সংস্কার) করলাম, সংবিধান পরিবর্তন করলাম, আইন কানুন পরিবর্তন করলাম। সবকিছু করতে পারব। কিন্তু মানুষের জীবন যদি সহজ করে তুলতে না পারি, কোনোটাই কাজে আসবে না। আজ শনিবার ঢাকার বনানী ক্লাবে একটি আইটি সংক্রান্ত প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে মঈন খান এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আইসিটি নিয়ে আজ যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেগুলো তিনি ২০–২৫ বছর আগেও শুনেছেন। প্রশ্ন হলো- গত ২৫ বছরে সেই কথাগুলো বাস্তবায়িত হলো না কেন এবং আজ আবার কেন নতুন করে একই কথা বলতে হচ্ছে? ২০০৫ সালের দিকে প্রণীত বাংলাদেশের আইসিটি নীতিমালা আজও কার্যকর রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সেটির কোনো আধুনিকায়ন বা আপডেট হয়নি। অথচ প্রযুক্তি দ্রুত বদলে গেছে। ড. মঈন খান স্মরণ করিয়ে বলেন, বাংলাদেশে প্রথম আইসিটি মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, দেশের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন করে আইসিটি খাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আইসিটির বাস্তব প্রয়োগে জনভোগান্তির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে গাড়ির রোড ট্যাক্স অনলাইনে দিতে গিয়ে সার্ভার সমস্যার কারণে সাত দিন ধরে সাতটি অফিসে ঘুরতে হয়েছে। শেষ তারিখ পার হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষের জীবন সহজ করার বদলে যদি প্রযুক্তি জীবনকে জটিল করে তোলে, তাহলে আইসিটি চালুর প্রয়োজন কী? তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আইসিটির নামে প্রকৃত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের চেয়ে দুর্নীতিই বেশি হয়েছে। কালিয়াকৈরে আইসিটি পার্ক প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও বাস্তব সুফল শূন্য- এটি তার একটি বড় উদাহরণ।