সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষরে সাধারণ মানুষ আবেগ কথা লিখছেন। দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আজ শুক্রবারও এমন চিত্র দেখা গেছে। এর আগে, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ে শোক বই খোলার পর থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আগমন শুরু হয়। গুলশান কার্যালয়ে তিন দিনের শোক বইয়ের সাক্ষর গতকাল শেষ হয়েছে। সাত দিনব্যাপী শোকে আজকের দিনেও অর্ধনমিত রাখা হয়েছে পতাকা। নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ফটকে সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষজন অপেক্ষা করছেন শুধুমাত্র একটি স্বাক্ষরের জন্য; যা তাদের কাছে প্রিয় নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক। শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে আসা মানুষের চোখে-মুখে ছিল গভীর আবেগ ও বিষাদের ছাপ। অনেকেই খালেদা জিয়াকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক ও মমতাময়ী ‘মা’ হিসেবে স্মরণ করছেন। শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে আসা সাধারণ নাগরিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে অনেক দিন দেখা যায়নি। কিন্তু তার আদর্শ, সংগ্রাম আর নেতৃত্ব আমাদের জীবনের অংশ হয়ে আছে। আজ সেই অনুভূতিগুলো শোক বইয়ের পাতায় লিখে রাখতেই এখানে এসেছি। তিনি আমাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের মা, গণতন্ত্রের মা।’
নরসিংদী থেকে আগত আলম আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘এই দেশ আর এই দেশের মানুষই ছিল খালেদা জিয়ার পরিবার। কারও কাছে তিনি দেশনেত্রী, কারও কাছে আপসহীন নেত্রী, আবার কারও কাছে গণতন্ত্রের মা। আজ আমরা এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়েছি, যিনি সারাজীবন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অনিঃশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন। আমার কাছে তিনি একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের পুরো জীবন দেশ ও মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন।’ নয়াপল্টনের শোক বইয়ের পাতায় পাতায় লেখা এই বিদায়ের ভাষাগুলো যেন একটি অধ্যায়ের অবসান এবং এক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নীরব স্মারক হয়ে উঠেছে। শোক বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন।