বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হলো।’ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সংবাদিটি নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে হবে, এটা কখনও ভাবিনি। আমরা আবারও আশা করছিলাম তিনি আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠবেন। আজ ভোর ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের জাতীয় অভিভাবক আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই শোক, এই ক্ষতি অপূরণীয়, যা এই জাতি কখনও পূরণ করতে পারবে না।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যে নেত্রী তার সারাটা জীবন জনগণের জন্য, কল্যাণের জন্য তার সমগ্র জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন, সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই। আমরা যারা তার রাজনৈতিক কর্মী এবং সহকর্মী, আমরা এটা ভাবতেও পারি না।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদেরকে ফোন করেছিলেন সঙ্গে সঙ্গে। ইতোমধ্যেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সকাল দশটা-সাড়ে দশটার মধ্যেই তারা স্পেশাল ক্যাবিনেট মিটিং করবেন। সেই ক্যাবিনেট মিটিংয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে শেষ কাজগুলো, তার জানাজা, তার দাফন, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া- এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা দশটা-সাড়ে দশটায় একটা সভা করবেন। এরপর আমরা পুরো জিনিসটাকে কো-অর্ডিনেট করে সেটা আপনাদেরকে আবার জানাবো।’ আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ২৩ নভেম্বর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। এর আগে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে ওঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। বহু বছর ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনও শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের জুনে তাঁর হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনও তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল। এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে। ১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন ব্যবসায়ী। মা তায়েবা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন তিনি। তার ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’।