১৯ বছরেরও অধিক সময় পর বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেশকিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেন তারেক রহমান। এরপর করলেন মোনাজাত। মোনাজাত শেষে আবেগাপ্লুত তারেক রহমানকে টিস্যু দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তারেক রহমান। এসময় প্রথমে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ জিয়া উদ্যানের সামনে রাস্তায় বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে সমাধিতে যান তিনি। এরপর কবর জিয়ারত করেন।

দীর্ঘদিন পর বাবার স্মৃতিধন্য এই স্থানে ফিরে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আনুষ্ঠানিক দোয়া ও মোনাজাত শেষে পাশে থাকা নেতাকর্মীদের সরে যেতে অনুরোধ করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি একান্তে কিছুক্ষণ বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন। দলীয় নেতাদের সঙ্গে ফুল দেওয়া শেষে একাকী নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারেক রহমান। এরপর মোনাজাত করেন তিনি। মোনাজাত শেষে তাকে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়।দীর্ঘদিন পর মাতৃভূমিতে ফিরে বাবার সমাধিতে দাঁড়ানোর এই মুহূর্ত উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। এর আগে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা দেন তার বড় ছেলে ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রওনা দেয়ার পর রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তারেক রহমানকে অভিবাদন জানান। তাকে এক নজর দেখার জন্য সড়কে নেতাকর্মীরা ভিড় জমান। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে তাকে বহনকারী বাস ধীর গতিতে এগোচ্ছে। বিজয় সরণি মোড়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ে তার গাড়িবহর আটকে গেলে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বহরটি এগিয়ে নেয়। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন জনসমাগমে ঢাকা মহানগরী জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ১লা সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেছিলেন তারেক রহমান।