1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ বগুড়াতে বিএনপির বাহিরে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিবেনা মানুষ-ভিপি সাইফুল মোহনপুরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একদিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গাবতলীতে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ১০৮টির মধ্যে ৭০টি অবৈধ

সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার: তারেক রহমান

  • সম্পাদনার সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার প্রদশিত হয়েছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজ আমাদের সামনে সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, তেমনি সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে একসঙ্গে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যে বাংলাদেশে একজন মা স্বপ্ন দেখতে পারেন। অর্থাৎ, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে, ইনশাআল্লাহ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্লোগান দিয়ে বলেন, সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, তেমনি সমতলের মানুষও আছে। আমাদের যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই। শান্তি চাই। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় স্থাপিত সংবর্ধনা মঞ্চে উঠে প্রথম দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এই তরুণ নেতা। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রথমেই রব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। বলেন, মহান রব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি। তারেক রহমান বলেন, আমরা শান্তি চাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে যেমন সর্বস্তরের মানুষ সবাই মিলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল, সেভাবেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে চায়। সংবর্ধনার  তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা এই অনুষ্ঠানটি দেখছেন, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, প্রিয় মা ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজার লক্ষ কোটি শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে চাই। তার অসীম রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের ভালোবাসায়।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি একাত্তর সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। একইভাবে পঁচাত্তরে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ এদেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল। একাত্তর সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, তেমনি ২০২৪ সালেও এদেশের ছাত্র-জনতা, সর্বস্তরের মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, গ্রাম ও শহরের নারী-পুরুষ, মাদ্রাসা ছাত্রসহ দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। সেদিন ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়েছিল।’তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায় তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে। তিনি বলেন, ‘এই দেশে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, প্রায় পাঁচ কোটির মতো শিশু, চল্লিশ লক্ষের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। প্রায় এক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর রাষ্ট্রের কাছে একটি প্রত্যাশা আছে, একটি আকাঙ্ক্ষা আছে।’তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে ইনশাআল্লাহ এই লক্ষ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো আমরা পূরণ করতে পারি।’তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর সালে আমাদের শহীদরা এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বিগত পনেরো বছরে হাজার হাজার মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্যরাই নয় নিরীহ সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সালে আমরা সেই ভয়াবহ দিনগুলো নিজের চোখে দেখেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন।এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ২০২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ওসমান হাদিসহ; একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন; এবং বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের সকলের আত্মত্যাগ আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে সকলে মিলে কাজ করব। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তি ও সুবিধাভোগীরা নানা ষড়যন্ত্রে এখনো লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা এখানে আছেন আপনারাই আগামীর দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। এই দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি শক্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তির উপর, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর যাতে বাংলাদেশ একটি টেকসই ও ন্যায় ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমার সঙ্গে এই মঞ্চে বহু জাতীয় নেতা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত আছেন। মঞ্চে যারা আছেন, মঞ্চের বাইরে যারা আছেন আমরা সবাই মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা বাংলাদেশে শান্তি চাই, আমরা বাংলাদেশে শান্তি চাই, আমরা বাংলাদেশে শান্তি চাই। আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই ‘ I have a plan for the people of my country, for my country. এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয় এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ অবস্থান করছেন প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন ইনশাআল্লাহ আমরা এই “ও যধাব ধ ঢ়ষধহ” বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে আসি। চলুন, আমরা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমতদানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী আপনি যদি আমাদের ওপর রহমত করেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষের কাঙ্খিত অধিকার নিশ্চিত করতে পারব। তিনি বলেন, আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য ও দোয়া এই দেশের ওপর থাকে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে অঙ্গীকার করি আগামী দিনে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা যেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ও ন্যায়নীতির আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আপনারা জানেন এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাচ্ছি। যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছেন। তাঁর সঙ্গে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যক্ষভাবে সে সম্পর্কে অবগত। একজন সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ করব আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা তাঁর জন্য দোয়া করবেন। আজ তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন। কিন্তু যাদের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন এই দেশের সেই মানুষগুলোর জন্যই তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। আমি কোনোভাবেই চাই না, সেই মানুষগুলো অনিরাপদ থাকুক। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে, আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে যারা আমাকে দেখছেন আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আসুন আমরা সবাই নিশ্চিত করি আমরা যে কোনো শ্রেণির মানুষ হই, আমরা যে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা আমরা নির্দলীয় ব্যক্তি হই যে কোনো মূল্যে আমরা এই দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখব। যে কোনো মূল্যে আমরা অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা রুখে দাঁড়াব। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক যে কোনো বয়স, যে কোনো শ্রেণি, যে কোনো পেশা, যে কোনো ধর্মের মানুষ সবাই যেন নিরাপদে থাকতে পারে। এই অধিকারই আমাদের চাওয়া। আজ এই চাওয়াই আমাদের অঙ্গীকার। আসুন, সামনে এগিয়ে যাই। এর আগে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনা মঞ্চে উঠেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। এরপর বক্তব্য রাখেন দলটির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies