আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের আপসহীন কণ্ঠস্বর, রাজপথের লড়াকু সৈনিক শরীফ ওসমান হাদি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁর হৃদয়বিদারক শাহাদাতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র দেশবাসীর পাশাপাশি ২৪ এর অভ্যুত্থানে তাঁর রাজপথের প্রতিটি লড়াইয়ের সহযোদ্ধারা গভীর শোক প্রকাশ করছেন। বিপ্লবী হাদির এমন অকাল শাহাদাত মেনে নিতে যেন প্রস্তুত ছিলেন না কেউই! বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে বলা হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদীকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ওসমান হাদি ছিলেন এক সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তার দুর্দান্ত সাহসিকতা ও আপসহীন বক্তব্য তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করত। সহযোদ্ধাদের মতে, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক জীবন্ত ইশতেহার। নতুন প্রজন্মের অধিকার আদায়ের এই অগ্রজ কণ্ঠস্বরের স্পষ্টবাদিতা অনেককে করেছে অনুপ্রাণিত। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে নাগরিক অধিকার রক্ষায় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র হিসেবে শরীফ ওসমান হাদি এক উজ্জ্বল ও অকুতোভয় নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ও প্রতিবেশী দেশের নগ্ন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় কঠোর অবস্থানে ছিলেন। দেশবিরোধী গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান সবার কাছে ‘জাতীয় বীর’ বা ‘মহানায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী এবং তার নিজ এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়। শোকাহত সাধারণ ছাত্রজনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শোক প্রকাশ করেন। তার অকাল শাহাদাতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ গভীরভাবে ব্যথিত। গত জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসীরা তার অকালে চলে যাওয়াকে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ওসমান হাদি দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান। দিল্লির আগ্রাসন ও স্বৈরাচার বিরোধী ভবিষ্যৎ যে কোন আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে থাকবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদির চলে যাওয়া দেশপ্রেমিক শক্তির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে ফাসিবাদ বিরোধী লড়াই, আওয়ামী দুঃশাসন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিটি কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থেকে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। হাদির লেখা ও বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য তরুণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও দিল্লির আগ্রাসন বিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয় অংশ নেওয়া তরুণদের আইকনে পরিণত হন তিনি। ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।ওসমান হাদির অনুসারীরা এখন তার রেখে যাওয়া বার্তা এবং সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নিচ্ছেন। তারা বলছেন, “ব্যক্তি মারা গেলেও তার আদর্শ বেঁচে থাকে।” শোক প্রকাশ করে নেটিজেনরা লিখেছেন, “ওসমান হাদি চলে যাননি, তিনি মিশে আছেন এ দেশের প্রতিটি ধূলিকণায়। তার লড়াই আমাদের প্রতিটি বিপ্লবে সাহস জোগাবে।” আপসহীন নেতৃত্ব ও আদর্শিক দৃঢ়তা: হাদি কেবল একজন সংগঠক নন, বরং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার এক বলিষ্ঠ প্রবক্তা। জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তার অনড় অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলেছে।তার প্রতিটি বক্তব্যে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েমের তীব্র আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইনকিলাব মঞ্চের প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি যেভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছেন, তা তাকে একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার ভূমিকা জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে সহায়ক হয়েছে।আন্দোলন-সংগ্রামে তার আত্মত্যাগ এবং রাজপথের সক্রিয় উপস্থিতি তাকে ‘গণমানুষের নেতা’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করার মধ্য দিয়ে তার প্রতি দেশবাসীর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন সুবক্তা হিসেবে হাদির যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনা রাষ্ট্রযন্ত্রের অসংগতিগুলো তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তার শান্ত অথচ দৃঢ় প্রকাশভঙ্গি তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেমের নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন, “শরীফ ওসমান হাদি আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন এক তরুণ নেতৃত্বের নাম, যিনি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রাজপথ এবং মেধা—উভয় ক্ষেত্রেই লড়াইয়ের নতুন ভাষা তৈরি করেছেন। তার নির্ভীক পথচলা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক বড় অনুপ্রেরণা। সেই সাথে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ে মডেল হয়ে থাকবেন তিনি।”