স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিতি বগুড়া-৩ দুপচাচিয়া ও আদমদিঘী আসন। বিএনপির দখলে থাকা এই আসন ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির হাতে। ১৮ সালের নিশিরাতে ভোটে আবারও নির্বাচিত হয় জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার। ২০২৪ সালে বিএনপি আবারও ভোট বর্জন করায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা আমি ড্যামি নির্বাচন শুরু করে। আদমদিঘী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রাজুর ছেলে সাইফুল্লাহ মেহেদী স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়। ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যায়। মামলা-হামলায় জরর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীরা ফিরে পায় নতুন দিনের আশা।
তবে এদিকে পালাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সমর্থক বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক বিএনপিতে যোগদান করেছেন এ খবরে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার সাহারপুকুর বাজার চত্বরে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মো: রেজাউল করিম বাদশার কাছে কেন্দ্রীয় দফতর থেকে প্রেরিত সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ রশিদ পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করে। ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিশাল বিজ্ঞাপন দিয়ে দুপচাচিয়া গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিএনপিতে যোগদনের খবর প্রকাশ হয়। সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক বিএনপিতে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা ও উপজেলার তৃণমূল কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা বলেন, সাখাওয়াত হোসেন মল্লিন আওয়ামীলীগের সমর্থক। তার আপন ছোট ভাই আব্দুল মমিন মিঠু গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির প্রভাবশালী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের স্ত্রী ঢাকা মহানগর ওয়ার্ড আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রী।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক গোবিন্দপুর ইউনিয়র পরিষদ নির্বাচনের ৬ মাস আগে এলাকায় এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করার ঘোষণা দেন। আওয়ামীলীগের ইউনিয়নের নেতাদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। উপজেলা ও ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সম্পর্কের কারেণ তাকে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেন। আওয়ামীলীগের উপজেলা নেতাদের বিপুল অর্থ দিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীতে পরাজিত করে মল্লিক গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের পুরো সময়ে সরকারের বড় বড় মন্ত্রী ও এমপির সাথে সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মল্লিক ফেসবুক আইডিতে গিয়ে মিলিছে তার প্রমান। আওয়ামীলীগের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সাথে সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক নামে ফেসবুক আইডির কাভারফটোতে ফুল দেয়ার ছবি দেখা যায়। আওয়ামীলীগের এমপি ও উপজেলা নেতাদের সাথে সাক্ষাৎতে অনেক ছবি ফেসবুকে অপলোড দিয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত ১৫ বছর বিএনপির কোন নেতা বা তৃলমূলের কর্মীর সাথে সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের কেন যোগাযোগ ছিল না। গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কিছু দিন আগে জানা যায় এক ব্যবসায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে। কথা হয় সাধারণ বিএনপির কর্মীর সাথে কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, কি আর বলি ভাই, বিএনপির অবরোধ আন্দোলনের সময় আমি গোবিন্দপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করি। সে সময় যাদের আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায় নি এখন তারা বড় নেতা হয়েছে। আমরা তৃর্ণমূলে রাজনীতি করি সেজন্য আমাদের মূল্যেয়ন নেই। আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আর্দশ নিয়ে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রাহমানের নির্দেশে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব। ৫আগস্টের আগে বিএনপির অবরোধ, আন্দোলন চলাকালে হাতে গোনা নেতাকর্মী এলাকায় দেখা গেলেও বর্তমান এখন অনেক নতুন নেতার অবিরভাব হয়েছে। আন্দোলনের সময় এই ইউনিয়নে অনেক নেতাকর্মীর নেতা নামে মামলা হয়েছে। যাদের নামে মামলা হয়েছে তারা এখন রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। এখন দেখছি যারা আওয়ামীলীগ করত আওয়ামীলীগের সমর্থক ছিল তারাই এখন বিএনপিতে যোগদান করছে। তারাই এখন বড় নেতা।

সরোজমিনে গিয়ে কথা হয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের আন্দোলনে ১৬টি মামলার আসামী গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবীরের সাথে তিনি বলেন, সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার স্ত্রী সান্ত¦না হায়দার ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকার মহিলা আওয়ামীলীগের লীগের সম্পাদিকা।
বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক ওবায়দুর রহমান চন্দন উত্তর কোণকে বলেন, যোগদানের বিষয়ে জনতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি বলেন, আমরা বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় গুলো দেখি।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা বলেন, কোন অবস্থাতেই আওয়ামীলীগের দোসর দখলবাজ, চাদাবাজ এবং নিশা খোরদের বিএনপিতে যোগদানে সুযোগ নেই। তবে এলাকার সৎ, জনপ্রিয় মানুষ বিএনপির প্রথমিক সদস্য হতে পারে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শহর বিএনপির সভাপতি দুপচাচিয়া ও আদমদিঘী আসনের বিএনপির মনোনয়র প্রত্যাশী এডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, সাখাওয়াত হোসেন মল্লিলকের স্ত্রী আওয়ামীলীগের নেত্রী। সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকের বাবা প্রবীণ বিএনপি কর্মী ছিলেন। বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে যে বিজ্ঞাপন দিয়েছে সেটি দৃষ্টি গোচর হয়েছে এটার প্রতিবাদ দেয়া হইনি। হিরু আরো বলেন, যোগদান ও নবায়নের কোন সুযোগ নেই। মল্লিক বিএনপির প্রাথমিক সদস্য না।
দুপচাচিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম খান স্বপন বলেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাই এসে দলীয় প্রোগ্রাম করে ৪-৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক তার হাতে যোগদান করে। স্বপন আরো বলেন, মল্লিক অতীতে কোন দল করেনি। তার স্ত্রী আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য।
সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক উত্তর কোণকে বলেন, আমি কোন রাজনৈতীক দলের সাথে ছিলাম না। আমার বাবা এক সময়ে বিএনপি করত। আমি দীর্ঘ সময় বাহিরে ব্যবসা বার্ণিজ্য করেছি। ইচ্ছা ছিল সুযোগ আসলে বিএনপিতে যোগ দিব। তাই সুযোগ আসলো তাই বিএনপিতে কাজ করতে যোগ দিলাম। সাখাওয়াত হোসেন মল্লিককে তার স্ত্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আওয়ামীলীগের পোষ্ট ধারী কোন পদে ছিলনা। আমার স্ত্রী আওয়ামীলীগকে পছন্দ করত।