স্টাফ রিপোটারঃ আন্দোলন সংগ্রাম চলাকালে ঢাকায় পড়ি জমান বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে থাকা আরফাতুর রহমান আপেল। দীর্ঘ সময় আন্দোলন সংগ্রামে না থাকলেও ঢাকায় হেবিওয়েট নেতাদের সাথে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিতেন। আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে ছিলেন নিষ্ক্রিয়তা। আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের শেষের ঢাকায় পড়ি দিয়ে জমির ব্যবসা শুরু করে শিল্পপতি হয়ে যান। চলাফেরা করেন কোটি টাকার গাড়িতে। এরপর আর পিছনে দেখতে হয়নি আপেলকে। কোটি ঢাকা খরচ করে হয়েছে সুনামধন্য ঢাকার বনানী ক্লাবের ডারেক্টর। বিএনপি বিদ্বেশী র্যাব ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীরের ঘনিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী সুবিধা নিতেন ঢাকা জুড়ে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের সাথে চলাফেরা করতেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনার পতনের পর আবরও বিএনপি নেতাদের সাথে ঘনিষ্ট হতে কাজ করছেন। সস্ত্রাসী হামলায় গুরুত্বর আহন হন বগুড়া সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রুবেল এই হামলার ঘটনার অভিযোগ ওঠে আপেলের বিরুদ্ধে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর আরফাতুর রহমান আপেল বগুড়া সদর-৬ আসনে নির্বাচন করতে চান এধরনে একটি পোষ্ট তার ভেরিফাইড ফেসবুকে দেন। ফেসবুক পোষ্টে তিনি লিখেছেন, বগুড়া-৬ আসন জিয়া পরিবারের আসন। যদি এই আসন জিয়া পরিবার বাদ দিয়ে যদি কেউ নিবার্চন করতে চায় তাহলে আমি বগুড়া-৬ আসনে বগুড়া জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ৩২ টা মামলার আসামী ও কারা নির্বাচিত হয়েও আমি নির্বাচন করতে চাই। কারণ আমি আরফাতুর রহমান আপেল সাবেক সাধারণ সম্পাদক বগুড়া জেলা যুবদল ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনেক কষ্ট সহ্য করে ও জিয়া পরিবারের আসন ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আমি এই আসনে নির্বাচন করতে চাই। আপনাদের সাহায্য ও সহযোগিতা একান্ত ভাবে কামনা করি।
এই পেষ্টের কমেন্ট সেকশনে অনেকে লিখেছেন দোয়া রইলো, শুভ কামনা, পাশে আছি। আবার কেও লেখেন এটা জিয়া পরিবারের আসন। আব্দুল আলিম নামে এক জন কমেন্টে লিখেছেন ঘটি বাটি কম্বল সব হারাবে। এনামুল হক রানা কমেন্টে করেন দুর্দিনে পালিয়ে ছিলেন। এদিকে ফেসবুক পোষ্ট দেখে শহর জুড়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। জিয়া পরিবারের এই আসন নিয়ে অনেক দু:সাহস দেখিয়েছেন এই নিষ্ক্রিও থাকা নেতা আপেল। বিতর্কিত হওয়ার কারণে গতবছর সারাদেশে বন্যাতে বিএনপির ত্রাণ তহবিলে আপেল ১০লাখ ঢাকা দিলে সেই অর্থ ফিরিয়ে দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি।
ত্রাণ কমিটির সদস্য সচিব বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরফাতুর রহমান আপেলকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে বলা হয়েছে- বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির তহবিলে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেছেন। আপনার সামাজিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে অজ্ঞতাবশত তা গ্রহণ করা হয়েছিল। যা ত্রাণ সংগ্রহের নীতিমালার পরিপন্থি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ তহবিলে আপনার দেওয়া ১০ লাখ টাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি ফেরত দিচ্ছে।
আরফাতুর রহমান আপেল ছাত্রদল বা তৃণমূল রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। আপেলের ছিল গ্রিলের ব্যবসা। ২০১০ সালে কেএম খায়রুল বাশারের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তারপর সিপার আল বখতিয়ারের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি।
বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম খায়রুল বাশার বলেন, জিয়া পরিবারের সম্মান ছোট করতে এই কাজ করেছে। আপেলের দৃষ্টতা দেখে আমি হতবাক হয়েছি। এটা জিয়া পরিবারের আসন। এই আসনে জেলা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারাও মনোনয়ন পত্র কিনতেও চায়না। বাশার আলো বলেন, ফেসবুকে দেখার পর সবাই ধিক্কার জানিয়েছে। আন্দোলনের দীর্ঘ সময়ে দল বা নেতাকর্মীর সাথে তার কোনা যোগাযোগ ছিলনা। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার চলাচল ছিল।
জিয়া পরিবারের এ আসনে এমপি নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরফাতুর রহমান আপেল বলেন, জিয়া পরিবারের বাহিরে অন্য কেও নির্বাচনে দাঁড়ায় তাহলে আমিও দাঁড়াতে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছি। যদি জিয়া পরিবারের কেও নির্বাচন করে সে ক্ষেত্রে আমি নির্বাচনে যাব না। জিয়া পরিবারের বাহিরে মনোনয়ন পত্র কোন নেতা পেলে তাকে সহযোগীতা করবো। স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে এ-আসন থেকে করা ঠিক হবে না। পুলিশের সাবেক আইজির সাথে ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে আপেল বলেন, ঢাকার একটি শো-রুম উদ্বোধনের সময় এই ছবিটি। এই অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রায় ২০জন নেতাকর্মী ছিলেন।