পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া থেকে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বাড়ছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা। কয়েক দফা টেন্ডার দিয়েও যোগ্য ঠিকাদার পাচ্ছে না পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে থমকে আছে সড়ক মেরামত কাজ। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে মহাসড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, গাছপাড়া থেকে মজিদপুর পর্যন্ত সড়কটি ভাল থাকলেও টেবুনিয়া থেকে শুরু হয়েছে ভাঙাচোরা। আটমাইল, কালিকাপুর, সুগার মিলের সামনে, দাশুড়িয়া পাওয়ার আগে কয়েক জায়গায় মহাসড়কটির মাঝখানে ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের। মাঝেমধ্যে খোয়া, পিচ দিয়ে খানা খন্দ ভরাট করলেও টিকছে না বেশিদিন। সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে আবারো শুরু হয়েছে ভাঙাচোরা আর গর্ত। অনেক জায়গায় আবার সড়ক দেবে এবড়ো থেবড়ো হয়ে গেছে। টেবুনিয়া বাজারে কথা হয় অটোরিকশা চালক সাইফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ’এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। টেবুনিয়া বাজারের অবস্থা বেশি খারাপ। গাড়ি নিয়ে চলাচল করা কষ্ট। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নষ্ট হয়। মহাসড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।’ টেবুনিয়া থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ঈশ্বরদী যাচ্ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম উদ্দিন। তিনি জানান, ’এই মহাসড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। কারণ এই সড়ক দিয়ে পাবনা থেকে ঢাকা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা আর গর্তের কারণে দূর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।’ পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য বলছে, গাছপাড়া থেকে দাশুড়িয়া পর্যন্ত মহাসগড়কটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। পাঁচ বছর আগে শেষবার মেরামত কাজ হয়েছে মহাসড়কটিতে। এরপর আর বড় ধরনের কোনো মেরামত কাজ হয়নি। মহাসড়ক হওয়ায় দূর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাবনা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক উপ-বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান বলেন, ’মহাসড়কটি মেরামতের জন্য ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার দেয়া হয়েছিল। কয়েক দফা টেন্ডার দেবার পরও যোগ্য ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ ২০২৪ সালে টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু টেন্ডারের শর্ত মোতাবেক ঠিকাদারদের কাগজপত্র পাওয়া যায় না। আবার অনেকে কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদার বাদ দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক কারণে বড় বড় ঠিকাদাররা পালিয়ে গেছে। এমন নানা কারণে যোগ্য ঠিকাদার নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এজন্য মহাসড়কটি মেরামত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সামনে আবারো টেন্ডার দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যোগ্য ঠিকাদার পেলেই মেরামত কাজ শুরু হবে।’