আজাদুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর মহাদেবপুরে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (সাইলো) নির্মানের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে । দীর্ঘ ৩ বছরে এ প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজই শেষ হয়নি । এক বছর ধরে বন্ধ আছে মাটি ভরাটের কাজ । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , গত বছর ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে ।। সরকার পতনের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা । এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এ সাইলো নির্মানের কাজ। জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলার ভীমপুরে ১০ কোটি ৫৬লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি অধুনিক সাইলো নিমার্নের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার । এ প্রকল্পের জন্য ১৫একর জমিও অধিগ্রহন করা হয় । ঠিকাদারী প্রতিষ্টান হিসাবে নিয়োগ পান ঢাকার মের্সাস চন্দ্রদীপ কনস্টাকশন, রাজশাহীর ডন এন্টার প্রাইজ ও নওগাঁর ইথেন এন্টার প্রাইজ । এলাকাবাসী বলেন, ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তারা এখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে কোন কাজ করতে দেখেননি। এখন এই আধুনিক সাইলো নির্মান প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয় । গতকাল শনিবার সাইলো নির্মানের স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাটি ভরাটের কাজ অনেকটা এগিয়েছে । ভরাটকৃত স্থানটি স্থানীয়রা ফুটবল খেলার মাঠ ও গোÑচারন ভূমি হিসাবে ব্যবহার করছে । স্থানটিতে সাইলোর একটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল সেটিও কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। ভীমপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন বলেন , সাইলোর জন্য জমি অধিগ্রহণ থেকে মাটি ভরাট কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে কিন্তু ঠিকাদাররা তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্ট হওয়ায় কেউ কিছু বলতে পারেননি । খাদ্য উদ্বৃত্ত নওগাঁ জেলায় বিপুল পরিমাণ ধান চাল উৎপাদন হলেও তা সংরক্ষণের জন্য কোন আধুনিক মানের সাইলো নেই এই যুক্তিতে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিশাল বাজেটের এই প্রকল্প অনুমোদন করান । তবে খাদ্য বিভাগের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা । এ জেলায় ৫৮হাজার ৪৭৫ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ২০টি খাদ্য গুদাম রয়েছে । বছরের বেশিরভাগ সময় এসব খাদ্য গুদাম ফাঁকা থাকে । এরপরও বিগত সরকার উপজেলার ভীমপুরে ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক সাইলো নির্মানের প্রকল্প গ্রহন করে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আরেফিন বলেন , আধুনিক সাইলো নির্মানের বিষয়ে আমাদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল, এত বড় সাইলো নির্মানের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে আমরা মতামত দিয়েছি। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: ফরহাদ খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন , এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে ওই কমিটির উপর নির্ভর করছে সাইলো নির্মান প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম ।