বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যাতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়। সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন প্রয়োজন এবং প্রয়োজন। বুধবার (৬ আগস্ট) রাজাধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে বিএনপির বিজয় র্যালির আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের কাছে আহ্বান রাখছি, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের সময় আমরা নিরাপদ ছিলাম না। আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ছিল না। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। পুরো বাংলাদেশকে বর্বর বন্দিশালা বানানো হয়েছিল। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন না থাকায় এমন হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের কারণে আসা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করা গেলে; জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলে, ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পাবে না। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। আর কোনো রক্তাক্ত চব্বিশ আমাদের দেখতে হবে না।
বিজয় র্যালি আয়োজন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্টের আমলে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আজকের বিজয় মিছিল অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা। তবে এ যাত্রা কিন্তু খুব সহজ নয়। ফ্যাসিবাদ উগ্রবাদ, চরমপন্থা যাতে আলোর পথে অন্ধকারের রেখা টেনে যেতে না পারে, এ ব্যাপারে গণতান্ত্রিক জনগণকে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের সামনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পাবে না। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের ভাই-বোন সন্তান-স্বজনদের জীবনের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলদেশে আর কখনো ’২৪ এর মতো রক্ত দেখতে হবে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য একজন নাগরিক হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি’র নেতৃত্বে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বিজয়ের শুরুতে আমি স্বাধীনতা প্রিয়, গণতন্ত্র প্রিয়, দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, যিনি যেই দলেরই সদস্য, রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হোন না কেন, আমাদের অবশ্যই সবার একটি কথা মনে রাখা দরকার। ফ্যাসিস্ট শাসন আমলে আমরা কেউই নিরাপদ ছিলাম না। আমাদের সন্তানেরা কেউ নিরাপদ থাকতে পারেনি। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আমাদের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতান্ত্রিক জনগণের জন্য সমগ্র বাংলাদেশটাকেই বরাবর বন্দিখানা, আয়নাঘর বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। সুতরাং দেশে যদি গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন না থাকে তাহলে নারী কিংবা পুরুষ, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু কেউই নিরাপদ নই। একমাত্র গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। সেজন্যই আসুন, দেশে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারগুলোর সুষ্ঠ প্রয়োগ এবং চর্চা করি। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, বিএনপি কী ধরনের সরকার এবং রাজনীতি পরিচালনা করবে তা দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ৩১ দফার মাধ্যমে একটি রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছি। একই সাথে অন্তর্বর্তী সরকারসহ সকল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। তবে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে এ সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা চায়। সবশেষে, ফ্যাসিস্ট মুক্ত বাংলাদেশে বিএনপি’র উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশে বিজয় র্যালির কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।