বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মিটফোর্ড এলাকায় পাথর মেরে মানুষ হত্যার ঘটনায় কিছু রাজনৈতিক দল এটাকে বিএনপির সাথে কালার করার, রংচং দেয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ওই ঘটনার সাথে বিএনপি কোথায়? আজ শনিবার মহানগর উত্তরের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় বিএনপি বা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নামে যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদেরকে রাতেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপি একটা বৃহৎ পরিবার। কোনো ছিদ্রপথে দুই-একজন দুষ্কৃতিকারী ঢুকে পড়ে সেটা সবসময় হয়তো খোঁজ রাখা যায় না। এত বড় একটা পরিবার। কিন্তু দুষ্কৃতিকারীরা কোনোভাবেই যদি তাকে চিহ্নিত করা যায়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দল কখনোই কার্পণ্য করেনি। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সমাজে কোনো দুষ্কৃতিকারী এবং দলের মধ্যে যদি কোনো সন্ত্রাসী থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জিয়াউর রহমান এইভাবে বিএনপিকে গড়ে তুলেছিলেন। দুষ্কৃতিকারীকে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করেননি। অপরাধ করেছে তার বিচার হবে তাকে গ্রেফতার করেছেন। এটাই তো জিয়াউর রহমানের আইনের শাসন বলে উল্লেখ করেন রিজভী। ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান করা হচ্ছে সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতিকারী, চাঁদাবাজদের’ জানিয়ে দলটির মুখপাত্র বলেন, ‘দল থেকে বলা হচ্ছে ওরা (বহিষ্কৃতরা) সন্ত্রাস করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করুন। আপনারা (প্রশাসন) যদি নিশ্চুপ থাকেন তাহলে তো সমাজের মধ্যে আরো বেশি বিশৃঙ্খলা নৈরাজ্য তৈরি হবে। আরো বেশি সন্ত্রাস তৈরি হবে। সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ও নিজের ধান্দার জন্য ও নিজের সুবিধার জন্য এর বাড়ি দখল করে। ওর জমি দখল করে। ওর গোয়াল ঘর থেকে গরু নিয়ে যায়। তার পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এইটাই সন্ত্রাসবাদীদের কাজ।’তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের অপকর্ম সংঘাত রক্ত ঝরানো মানুষ হত্যার সাথে যারা জড়িত, এদের বিএনপিতে কোনো ঠাই নেই। যারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, সেখানে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং প্রতিদিন নেয়া হচ্ছে। দুই একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। আপনাদের অতীত ভুলে যাইনি। তারা মিছিল করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে, কোনো লাভ হবে না। বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপি হচ্ছে মানুষ যাতে শান্তিতে থাকে সেই নিশ্চয়তা দেয়ার দল।’ ‘অপরাধী কেউ যেন দলের মধ্যে ঢুকে মাথা চাড়া দিতে না পারে’ নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে রিজভী বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে কল করে বলেছি, অপরাধী যত প্রতাপশালী হোক তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করুন। বিএনপি তার পক্ষে কথা বলবে না। কিন্তু আপনারা সেটা করছেন না কেন? এখানে ঢাকার পুলিশ কমিশনার কী করে? নাকি আপনারা চাচ্ছেন, এই ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকুক। আর দায়গুলো চাপা হবে বিএনপির ঘাড়ে।’