যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া বাংলাদেশী পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন শুল্ক আরোপের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি জাপান, কোরিয়াসহ আরো ১৪টি দেশ রয়েছে। তবে শুল্ক কার্যকরের সময় কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে কোনো দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি না হলে আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। নতুন শুল্ক আরোপের কথা জানিয়ে ১৪টি দেশের নেতাদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেসব চিঠি তিনি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো বাংলাদেশী সব পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই শুল্ক বর্তমানে খাতভিত্তিক যে শুল্ক দেয়া হয়, তার অতিরিক্ত হিসাবে প্রযোজ্য হবে। ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হলেও সেখানেও এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। চলতি বছরের এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় বাংলাদেশী পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ১৫ শতাংশ শুল্কে দেশটিতে পণ্য পাঠাতে পারতো বাংলাদেশ। পরবর্তীতে সেই ঘোষণা তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশকে চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময়সীমা এই সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে। ৯ জুলাই থেকে সেই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে শুল্ক হারে কিছুটা পরিবর্তন এনে ১ আগস্ট থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন দেশের সাথে পাল্টা শুল্ক আরোপ অথবা চুক্তির পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সাথে চুক্তিতেও পৌঁছেছে তারা। শুল্ক ইস্যুতে আলোচনা চালাচ্ছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল এখন এই বিষয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন শুল্কের ঘোষণা এলো। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পাশাপাশি, মিয়ানমার ও লাওসের পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পণ্যের ওপর ৩৬ শতাংশ, সার্বিয়া ও বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়া ও তিউনিসিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করেছেন ট্রাম্প। এছাড়া ১ আগস্ট থেকে শুল্ক আরোপের বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের কাছে আবারো চিঠি পাঠাচ্ছেন তিনি। এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সাথে চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আংশিক চুক্তি করেছে চীনের সাথেও। এই তিনটি ক্ষেত্রেই, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার আগের তুলনায় চুক্তিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যদিও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে মূল বিষয়গুলো। ভারতের সাথেও একটি চুক্তির কাছাকাছি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। প্রতিবেদন অনুসারে, শুল্ক আরোপের চিঠি পেতে চান না এই ব্লকের নেতারা । ইইউর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেয়েনের ট্রাম্পের সাথে ‘ভালো মতবিনিময়’ হয়েছে।