অবশেষে শেষ হলো গল টেস্ট। জেতেনি কেউ, আবার হারেওনি। কী হয়, কী হবে- নানা শঙ্কা থাকলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো টেস্টে ‘ম্যাথিউজ’ অধ্যায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রের উদ্বোধনী দিনে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় টাইগাররা। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে গলের মাঠে খেলে দুই দল। তবে পাঁচ দিন লড়াই শেষেও বের হয়নি ফল। টসে জিতে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৪৯৫ রান তুলে বাংলাদেশ। জবাবে দারুণ টক্কর দিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ৪৮৫ রানে। ১০ রানে ছোট লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামেন শান্ত-মুশফিকরা। শেষ দিনে এসে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে ৬ উইকেটে ২৮৫ রান তুলে। লিডসহ লঙ্কানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রান। তবে দিন শেষ হবার ৫ ওভার বাকি থাকতেই ড্র মেনে নেয় দুই দল। ৪ উইকেটে ৭২ রান তুলতে পারে শ্রীলঙ্কা। এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সর্বশেষ কোনো ম্যাচে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। যা তিন বছর আগে, ২০২২ সালে চট্টগ্রামে। এরপর ২২টি টেস্ট খেললেও আর ড্র করেনি কখনো। এবার গলে ফিরলো আবারো সেই স্মৃতি। শুধু তাই নয়, ১২ বছর পর গলে কোনো টেস্ট ড্র হলো। ২০১৩ সালে আগের ঘটনাটিও ছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার। এরপর মাঝে চলে গেছে আরো ২৬ ম্যাচ, তবে ফল এসেছে সবগুলোতেই। পঞ্চম দিনে মাঠে নামার আগে যে রোমাঞ্চ ছিল, মাঠে ছিল না তার ছিঁটেফোঁটাও। বাংলাদেশ দলের জয়ের ‘ক্ষুধামন্দা’ যেমন দায়ী, তেমনি রোমাঞ্চ ভাসিয়ে নেয় বেরসিক বৃষ্টি। ৩ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে শনিবার শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শান্ত ১১৩ বলে ৫৬ ও মুশফিক ৪৩ বলে ২২ রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। তবে আজ তাদের ব্যাটিং ছিল পরিস্থিতির বিপরীত। দিনটা যদিও জয়-পরাজয় নির্ধারণী, তবুও দিনের শুরুতে ১৯ ওভার খেলে মাত্র ৬০ রান আসে তাদের জুটিতে। বাউন্ডারি ছিল কেবল পাঁচটি। যা বাংলাদেশের জয়ের ইচ্ছেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ১০২ বলে ৪৯ রান করে রান আউট হন মুশফিক। এরপরই নামে বৃষ্টি। খেলা বন্ধ থাকে তিন ঘণ্টার বেশি সময়। দুপুরে যখন খেলা শুরু হয়, দিনের বাকি তখন ৫০ ওভার।
লিডসহ ২৪৭ রানের পুঁজি থাকা সত্ত্বেও আবারো ব্যাটিংয়ে নামেন শান্তরা। বিরতির পর মাঠে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। ৫ বলে মাত্র ৩ রান করে থারিন্দু রত্নানায়েকের শিকার তিনি। এরপর সেই থারিন্দুকে উইকেট দিয়ে এসেছেন জাকেরও (২)। স্ট্যাম্পড হয়েছেন তিনি। ২৩৭ থেকে ২৪৯, এই ১২ রানের মাঝে ৩ উইকেট হারায় দল। তবে অন্যপ্রান্ত দিয়ে মন্থর গতিতে ১৯০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। তাতে প্রথম বাংলাদেশী অধিনায়ক হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন তিনি। বনে যান টেস্টে একাধিকবার দুই সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান। ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। ব্যাট হাতে করেন ১৪৬ ও ১২৪ রান। তবে তখন দলের অধিনায়ক ছিলেন না তিনি। সেঞ্চুরির পরও ইনিংস ঘোষণা করেননি শান্ত। খেলেন আরো ২ ওভার। সব মিলিয়ে ১৯৯ বলে ১২৫ রান নেন তিনি। দলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৮৫। লিডসহ পুঁজি দাঁড়ায় ২৯৫ রানে। ইনিংস ঘোষণার পর জয়ের জন্য স্বাগতিকদের লক্ষ্য পাড়ি দিতে হতো মাত্র ৩৭ ওভারে। অর্থাৎ করতে হতো প্রায় ৮ রান করে। সুবাদে অবশ্য আক্রমণাত্মক শুরু করে লঙ্কানরা। ৬ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতে তুলে ৩২ রান। তবে এরপর হারাতে হয় লাহিরু উদানার উইকেট (৯)। ২ বল পর পাথুম নিশানকাকে ২৪ রানে ফেরান তাইজুল। দুই ওপেনারকে হারিয়ে এরপর আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। দীনেশ চান্দিমাল ৪৪ বলে ৬ ও সাদা পোশাকে নিজের শেষ ইনিংসে ৪৫ বলে ৮ রান করেন এঞ্জেলা ম্যাথিউজ। ৪৮ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তাইজুল একাই নেন ৩ উইকেট। এরপর কামিন্দু মেন্ডিজ ও চতুরঙ্গা ডি সিলভা মিলে ৭২ রানে পৌঁছান। তখনই দুই দল মেনে নেয় ড্র।এর আগে প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর ১৪৮ ও মুশফিকুর রহিমের ১৬৩ রানে ভর করে ৪৯৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পাথুম নিশানকার ১৮৯ রানে ভর করে ৪৮৫ করে লঙ্কানরা। নাইম হাসান নেন ৫ উইকেট।