আজাদুল ইসলাম মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা ঃ বোরোর ভরা মৌসুমে দেশের অন্যতম বৃহৎ মোকাম নওগাঁর মহাদেবপুরে বেড়েছে চালের দাম। বৃহৎ এ মোকামে চালের দাম বৃদ্ধির ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। খাদ্য বিভাগের হিসাব মতে, ঢাকায় চালের চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ সরবরাহ করা হয় নওগাঁ জেলা থেকে। নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় মহাদেবপুর উপজেলায়। এ উপজেলায় বৃহৎ অটোরাইচমিলসহ প্রায় ৩৭০ টি রাইচমিল রয়েছে। রাইচমিল গুলোর মধ্যে কয়েকটি রাইচমিল দিনে ৪ থেকে ৫ হাজার মের্ট্রিকটন চাল উৎপাদন করে। অন্যান্য বছর বোরোর ভরা মৌসুমে দাম কমলেও এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। বাজারে নতুন ধান আমদানির পর চালের দাম কমার পরিবর্তে আরো বেড়েছে। দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে চালের এ অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির কারনে বাজারে চাল কিনতে গিয়ে নাভিস্বাস উঠছে স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের। স্থানীয় মিল মালিকরা চালের দাম বৃদ্ধির কারন হিসেবে ধানের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন। তবে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে গত ১ সপ্তাহে ধানের দাম মানভেদে মণ প্রতি ৫০ টাকা থেকে ১ শ টাকা কমেছে। ধানের দাম কমলেও এ মোকামে চালের দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। স্থানীয় মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ সপ্তাহ আগের ৫০টাকা কেজির স্বর্ণা- ৫ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৩ টাকায়। একই ভাবে ৬০ টাকা কেজির জিরাশাইল ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। ৬৫ টাকা কেজির কাটারীভোগ কেজিতে ৫টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ভরা মৌসুমে এ মোকামে চালের এ দাম বৃদ্ধির জন্য বৃহৎ ২ টি কোম্পানিকে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এ উপজেলায় এসিআই ও আকিজ গ্রুপ চালের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে। তারা অধিক মুনাফার লোভে ভরা মৌসুমে অতিরিক্ত চাল মজুদ করায় এ মোকামে চালের দাম বেড়েছে। ওইসব মিলে মজুদ বিরোধী অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত মজুদদারী ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা সহ নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছে। শিঘ্রই চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।