বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলের ব্যতিক্রম ছিল বিএনপির আমল। বিএনপির আমলে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল। গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয়ার দল বিএনপি। মানুষকে দু-মুঠো খাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়ার দল বিএনপি। এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি লাল চোখ দেখানোর বিরোধিতাকারীও বিএনপি।’ আজ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিএনপির ঈদ উপহার বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। রিজভী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন নেতা, সেটা বললেই কথা হয়ে যাবে না। তিনি একজন যুগ সৃষ্টি করা নেতা। জনগণ তাকে নাম দিয়েছে রাখাল রাজা। রাখাল যেমন ধান ক্ষেত, বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের মধ্যে তাকে চড়ে বেড়াতে হয়, ঠিক তেমনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মাইলের পর মাইল হেটে চলেছেন, জনগণের দুর্দশা উপলব্ধি করেছেন। উপলব্ধি করে তিনি এমন এমন কর্মসূচি দিয়েছেন সেটা থেকে জনগণ তার নাম দিয়েছেন রাখাল রাজা।’ তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মানুষ যদি সৎ হয় ডাইনামিক হয়, গতিশীল হয়, তবে অল্প সময়ের মধ্যে একটি জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। যেটা জিয়াউর রহমান করেছিলেন। তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেই ক্ষমতায় এসেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা দারিদ্রতা এগুলো দেখে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছেন কিভাবে খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য তিনি সারাদেশে খাল কাটলেন। অল্প সুদে তিনি ব্যাংক থেকে কৃষকের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করলেন। এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি গোটা জাতিকে শক্ত একটা ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছিলেন, আর এজন্যই তিনি মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয়।’ জিয়াউর রহমানকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার বাবার কালাকানুন একই ছিল। কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না মত প্রকাশের চেষ্টা করে হলে টপ টু বটম কারাগারে অথবা গুম করে দেয়া হতো, হারিয়ে দেয়া হতো, নিরুদ্দেশ করা হতো। গেল ১৫ বছর বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী সকল রাজনৈতিক দল নেতাও কর্মীদেরকে একই ব্যবস্থা করেছে আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ডা: জাহিদুল কবির ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।