বদলগাছী ( নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে ঈদের ছুটিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সেই সাথে ৫ দিনে রেকর্ড প্রায় ৭০ হাজার দর্শনার্থী বিহারটি পরিদর্শন করেছেন এবং টিকিট বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা। দর্শনীয় স্থানটি পরিদর্শনের জন্য দেশী – বিদেশী পর্যটকরা সারা বছর আসলেও ঈদের সময় কয়েকদিন যেন জনসমুদ্রে পরিনত হয়। এই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্হানটি দর্শন এবং আনন্দ উপভোগের জন্য অনেকেই পরিবার- পরিজন, বন্ধু – বান্ধব নিয়ে ছুটে আসেন পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ভুটভূটি, সিএনজি, টমটম, ইজিবাইক সহ বিভিন্ন যানবাহনে দলে দলে লোক ছুটে আসছেন বিহারটি দর্শন এবং আনন্দ উপভোগের জন্য। কেউ কেউ আবার যানবাহনের উপর মাইক, সাউন্ড বক্স বাজিয়ে নেচে গেয়ে উল্লোস করতে করতে ছুটে আসছেন পাহাড়পুরের দিকে। দুটি প্রবেশ পথে সারিবদ্ধ ভাবে টিকিট কেটে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করছেন বৌদ্ধ বিহার এবং জাদুঘর পরিদর্শন করতে। বিহারের চারদিকে বিভিন্ন স্থানে পর্যটন পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাঁরা আগত দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছেন। এইরুপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে দর্শনার্থীরা ও বেশ খুশি। দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা থেকে খলিলুর রহমান স্বপরিবারে এসেছেন স্থানটি পরিদর্শনের জন্য। তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এখানকার পরিবেশ দেখে বেজায় খুশি। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা থেকে সজিব হোসেন এসেছেন কয়েকজন বন্ধুদের সাথে। তাঁরা বলেন, অপূর্ব সুন্দর। না আসলে বুঝতে পারতাম না। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থেকে এসেছেন এহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, ছোট মেয়েটা এই পাহাড়পুরের কথা বইয়ে পড়েছে। তার জেদেই স্বপরিবারে এখানে বেড়াতে আসা। অসম্ভব সুন্দর আনন্দময় একটা দিন কাটালাম। না আসলে বাস্তবটা উপভোগ করতে পারতাম না। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থেকে এসেছেন বায়েজিদ হোসেন তাঁর বন্ধুদের সাথে। তিনি বলেন, আমার এক ক্লাসমেটের দাওয়াতে নওগাঁ এসেছি। সেখান থেকে এই পাহাড়পুর দর্শনে আসা। এখানে না আসলে সত্যিই আমার এতদূরে আসাটা সার্থক হতোনা। খুলনা জেলার খালিশপুর থেকে এসেছেন সরকারি চাকুরীজীবি আতিউর রহমান। তিনি বলেন, এতোদিন পাহাড়পুরের কথা শুধু শুনেছি। ঈদের লম্বা ছুটি পাওয়ার পর থেকেই পরিকল্পনা করেছি স্থানটি পরিদর্শন করবো। তাই স্বপরিবারে ছুটে এসেছি। সত্যিই আমরা সকলেই অভিভূত। এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না। এভাবেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই আছে। বৌদ্ধ বিহার জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মোঃ ফজলুল করিম আরজু জানান, ঈদের দিন ৩১ মার্চ ১৮৬৭৮ জন প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শনার্থী এসেছেন, এতে ৫,৮০,৩৮০/= টাকা, ০১ লা এপ্রিল ১৫৯৪৮ জন দর্শনার্থী এসেছেন, এতে ৪৯০১৭০/= টাকা, ০২ এপ্রিল ১০৯৫৫ জন দর্শনার্থী এসেছেন,এতে ৩৫০৪৭০/=টাকা, ০৩ এপ্রিল ৮৬৮৯ জন দর্শনার্থী এসেছেন, এতে ২৬৬৪০০/=টাকা এবং ০৪ এপ্রিল ৫৬১৬ জন দর্শনার্থী এসেছেন, এতে ১৮৪৫৭০ /= টাকা সহ মোট ১৮৭১৯৯০/= টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। যা অতীতের যেকোন বছরের চেয়ে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়। তিনি আরো জানান, গত ৫ দিনে ৫৯৮৮৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থী বিহার ও জাদুঘর পরিদর্শন করতে এসেছেন। এছাড়াও পঞ্চম শ্রেনী পড়ুয়া পর্যন্ত বয়সীদের টিকিট নেওয়া হয় নাই। এতে মোট প্রায় ৭০ হাজার দর্শনার্থী বিহারটি পরিদর্শন করেছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের এক সদস্য বলেন, আমরা আগত দর্শনার্থীদের সার্বিক সেবা প্রদানের আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি। একজন আনসার সদস্য বলেন, আমরা দিনরাত ডিউটি পালন করেই চলেছি।কিন্তু আমাদের যে বেতন-ভাত তা দিয়ে জীবন যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছেন আনসার সদস্যগণ।