স্টাফ রিপোর্টারঃ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। অন্তর্বর্তিকালীন সরকার ৬ মাস সময় নষ্ট করেছেন। দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন শৃংখলার উন্নতি বা সংস্কার কোনটাই করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনকে ঠিকঠাক করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। তিনি বলেন, আপনার সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করেন। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২ টার্মের বেশি না থাকা, প্রধামন্ত্রী ও রাস্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা রয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার দাবিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উক্ত কথাগুলো বলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি চায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার যাতে ব্যর্থ না হয়। শেখ হাসিনাকে আমরা বিদায় করেছি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিলেন না। শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের নির্বাচিত সরকার। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ছিনতাই করেছিল। অন্তর্বর্তিকালীন সরকারকে বলবো যত দূর সম্ভব একটি নির্বাচন দিন। যতটুকু সংস্কার করা দরকার সেটুকু করুন। নির্বাচন কমিশনার ঠিক করুন। ওই কালো টাকার মালিকরা যাতে নির্বাচনে না আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন। এখনো বাজার আওয়ামী লীগের আমলে যে ব্যবসায়ীরা ছিলেন তাদের সিন্ডিকেটে আটকে আছে, সেই সিন্ডিকেট এখনো ভাঙতে পারেননি। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও পুলিশের আইজিপি তারা মিলে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিচার ও মামলা শুরু করতে পারেন নাই। আব্দুস সালাম আরো বলেন, তারেক রহমান বিএনপিকে ঠান্ডা করে রেখেছেন। গত ১৫ বছর আমাদের নেতাকর্মীদের মায়ের বুক খালি করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করেছেন। ইলিয়াস হোসেন ও চৌধুরী আলমসহ কয়েকশ নেতা কর্মীকে আমরা এখনো খুঁজে পাইনি। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের নেতারা দখল করেছিল। আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের চাকরি খেয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেতাদের সন্তানকে চাকরির সুযোগ দেয়নি। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা’র সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র এ্যাড. এ.কে.এম মাহবুবর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপি রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক ওবায়দুর রহমান চন্দন। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উন নবী সালাম ও খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সাবেক এমপি গোলাম মো: সিরাজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, ভিপি সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চান, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আহসানুল তৈয়ব জাকির, এম আর ইসলাম স্বাধীন, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জাহিদুল ইসলাম হেলাল, তৌহিদুল আলম মামুন, শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, শজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহিন, গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইউসুফ আলী, শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা, মৎস্যজিবি দলের আহবায়ক ময়নুল হক কবুল, জেলা তাতী দলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান।

উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবর রহমান হারেজ, জেলা বিএনপি নেতা ফজলুল বারী বেলাল, জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি শাহা মোহাম্মদ শাজাহান আলী, সাবেক এমপি মোস্তফা আলী মুকুল, বগুড়া রাবের সভাপতি আতাউর রহমান খান মুক্তা, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সরকার মুকুল, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, শহর যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব মমি, সাধারণ সম্পাদক আদিল শাহারিয়ার গোর্কি, শহর ছাত্রদলের সভাপতি এসএম রাঙ্গা, সাধারণ সম্পাদক ইতকুর রহমান রিমন প্রমুখ। জনসভায় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মুহুর্মুহু স্লোগানে জিয়া তোমার স্মরণে ভয় করিনা মরনে। এক জিয়া লোকান্তরে লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে ইত্যাদী স্লোগান আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ মুখরিত করে রাখে।