বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আওয়ামী লীগ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারণ ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে মানুষ মনে করতেন না। তিনি নিজেকে সব থেকে বেশি ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সন্ত্রাসী, নির্যাতনকারী বাকশালী সরকারের পতন ঘটে এবং খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীতে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমানে দেশে সংস্কার কাজ চলছে। দ্রুত এই সংস্কার কাজ শেষ করে নির্বাচন দেয়ার দাবী জানান। নির্বাচন পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্যধারন করে নিজেদের সংগঠিত করতে হবে। আওয়ামীলীগ সরকারের স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনা দেশের মানুষকে মানুষ মনে করতেন না। তিনি নিজেকে সব থেকে বেশী ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঐ সন্ত্রাসী, নির্যাতনকারী বাকশালী সরকারের পতন হয় এবং খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আজ বিএনপি’র গণজোয়ার নেমেছে। খুনি হাসিনা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের অমানবিক নির্যাতন করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পুরে রেখেছে। শুধু নেতাকর্মীই নয় বিএনপি চেয়ারপার্সন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পুরে রেখেছিলো। তাঁকে চিকিৎিসা পর্যন্ত করতে দেয়নি। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামলীগ সরকারের কোন মন্ত্রী, এমপি ও অনেক আমলা, প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী পালিয়ে গেছেন। কারন তারা যে অপকর্ম শেখ হাসিনার নির্দেশে করেছিলো তার সীমা নেই । এ কারনে শেখ হাসিনার সাথে সাথে তারাও পালিয়ে যায়। কিন্তু পালিয়ে লাভ হবেনা। সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে কাঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে। এর মানে এই নয় বিএনপি ক্ষমতায় গেছে। বর্তমানে দেশে সংস্কার কাজ চলছে। দ্রুত এই সংস্কার কাজ শেষ করে নির্বাচন দেয়ার দাবী জানান। নির্বাচন পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্যধারন করে নিজেদের সংগঠিত করার জন্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। দলের কেউ দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজী ও রাহাজানীর সাথে যুক্ত হলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এজন্য সবাইকে শান্তভাবে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এর সভাপতিত্বে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকটে শফিকুল হক মিলন ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, দেলোয়ার হোসেন, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল ইসলাম শাফিক, বজলুল হক মন্টু, জেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, গোলাম মোস্তাফা মামুন ও তোফায়েল হোসেন রাজু। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।