পাবনা প্রতিনিধি: শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশের বর্তমান পরিস্থিতির মাঝেও পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পাবনা ও কুষ্টিয়ার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের এই মহোৎসব চলছে। নদীর তীর ঘেষে বালুর উত্তোলনের ফলে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কৃষকদের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন দেখা যায়, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের চর কণ্ঠগজরা এলাকায় প্রকাশ্যে ১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন দৃশ্য দেখলে মনে হবে এটি কোনো নৌবন্দর। শতাধিক ট্রলার মাধ্যমে এসব বালু চলে যাচ্ছে পাবনার ভাঁড়ারা, দোগাছী, পাকশী, সুজানগর, কুষ্টিয়ার পাংশা, কুমারখালী ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন অন্তত কোটি টাকার ওপর বালু উত্তোলন করা হয়। আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘নৌকার ওপর অস্ত্র নিয়ে তারা বালু উত্তোলন করছে। বছরের পর বছর ধরে এই কাজ চলছে। আমরা ধারণা করেছিলাম সরকার পতনের পর বালু উত্তোলন বন্ধ হবে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ দেখতে পারছি না। আর প্রতিবাদ করলেই আমাদের দেয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। আপনাদের চোখেই দেখুন কিভাবে শত শত ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের সহযোগী আব্দুল আলিম এবং পাবনার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রিত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে এই বালু উত্তোলনের মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। এছাড়াও নৌ-পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলগুলোকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন চলছে। গত বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করায় তিন কৃষক পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে আর কেউ কথা বলতে সাহস করছেন না।’ এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের সহযোগী আব্দুল আলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাবনার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান বলেন, ‘গত এক মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু এসবের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার জড়িত থাকার বিষয়টি মিথ্যা।’ এ বিষয়ে চেষ্টা করেও পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন অভিযানে যাযই তখন তারা পালিয়ে যায়। আমাদের জনবলও কম। তারপরও আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আবারও অভিযান চালাবো। পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন, কোথায় কারা কিভাবে বালু উত্তোলন করছেন। আমাদেরকে সঠিক তথ্য দিন। আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করবো। পাবনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। ভিডিওসহ তথ্য দিন। আমরা অভিযান চালিয়ে প্রতিহত করবো।’