রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনা জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ঘটনা ঘটার রাতেই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে হতাহতের হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিজভী। সেই সাথে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্র্রেনে আগুন লাগিয়ে হতাহতের ঘটনা নিঃসন্দেহে নাশকতামূলক কাজ এবং মানবতার পরিপন্থী এক হিংস্র নিষ্ঠুরতা’। তিনি এই ঘটনায় ধিক্কার ও তীব্র নিন্দা জানান।
রিজভী বলেন, ‘গত ২০১৪ ও ‘১৫ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন সেই মুহূর্তে অগ্নিসন্ত্রাসের নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট দুস্কৃতিকারীরা জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আজকের ঘটনাসহ সম্প্রতি সেই মনুষ্যত্বহীন প্রাণবিনাশী অগ্নিসন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে। আজকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনার দ্বারা সেই পুরনো কৌশলকেই ব্যবহার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনে নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ জনসমর্থিত হওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন মহল দিশেহারা হয়ে গভীর চক্রান্ত ও নাশকতার ওপর ভর করেছে। এই অমানবিক ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ও দুরভিসন্ধিমূলক। পৃথিবীর সকল স্বৈরাচারই ভিন্নমতকে দমন করার জন্য সন্ত্রাস ও নাশকতার পন্থা অবলম্বন করে থাকে। দেশে-দেশে স্বৈরশাহী মানবতাবোধশূন্য ও অনুভুতিহীন হয়ে থাকে। আজকে দুস্কৃতিকারীদের দ্বারা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগিয়ে যে ধ্বংস ও বিপদের পথ উন্মোচন করা হলো তাতে দেশ ও জাতিকে এক গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
এই ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন রিজভী।
অবিলম্বে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগিয়ে জীবনহানি ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে অনেককে মারাত্মক জখম করার কাপুরুষোচিত ঘটনায় জড়িত দুস্কৃতিকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।’