জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের লাঙ্গলের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিভিন্নস্থানে লাঙ্গলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, অফিস ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানো ছাড়াও পোলিং এজেন্টদের প্রভাবিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনিতে থাকা মানুষের কাড সংশোধনের নামে নিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যেভাবে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে নৌকায় ভোট চাইছেন তাতে প্রশাসন প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে ভোটার, প্রার্থী ও সমর্থকরা উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রংপুর মহানগরীর সেনপাড়াস্থ নিজ বাসভবন স্কাইভিউতে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের ছাড়াও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক ভিবি আলাউদ্দিন মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইয়াসির, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি আব্দুর রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক আজমল হোসেন লেবু, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফিসহ নেতৃবৃন্দ। প্রতিক পাওয়ার পর দ্বিতীয় বারের মতো নিজ সংসদীয় আসন রংপুর-৩-এ প্রচারণা চালাতে শুক্রবার সন্ধায় সড়কপথে প্রটোকল ছাড়াই আসেন বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের। শনিবার সকাল ১০টা থেকেই নগরীর সেনপাড়ার নিজ বাসবভন স্কাইভিউয়ে নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের ফাঁকে কথা বলেন এ প্রতিবেদকের সাথে। ভোটের পরিবেশ সম্পর্কেং জি এম কাদের জানান, রংপুরে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো হলেও দেশের অন্য স্থানের অবস্থা উদ্বেগজনক। সারাদেশ থেকে আমরা যে খবর পাচ্ছি, তাতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের নানাধরণের হুমকির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নির্বাচনি ক্যাম্প ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। হামলা করা হচ্ছে। থমক দেয়া হচ্ছে। সভা মিছিলে বাধা দেয়া হচ্ছে। অনেক স্থানে আমাদের মাইক কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা যাচ্ছে। ভোটাররা মনে করছেন তারা ভোট দিতে যেতে পারবেন কিনা। রেজাল্ট সঠিকভাবে গুনে দেয়া হবে কিনা। ভোট যেটা দিব সেটার রেজাল্ট প্রার্থীরা পাবে কিনা। এসব নানা শঙ্কা আমি মানুষের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। মানুষ মনে করছে আওয়ামী লীগ অনেক জায়গায় জিতেই যাবে, ভোট দেয়া হোক আর না হোক। সেট করাই আছে। এ ধরণের ধারনা মানুষের।’
জি এম কাদের অভিযোগ করে বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির আওতায় উপকারভোগিদের অনেকস্থানে প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ডেকে নিয়ে তাদের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে রেখে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের বলছেন যদি নৌকাকে ভোট দেয়া না হয়, তাহলে আর কার্ড দেয়া হবে না।’ জি এম কাদের বলেন, ‘যারা পোলিং এজন্টে হবেন, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, মাদরাসা ও কলেজের শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে ডেকে নেয়া হচ্ছে। তাদের সাথে মিটিং করা হচ্ছে। সেখানে ইউএনওরা তাদেরকে কিছু ব্রিফ করছেন, কিন্তু সেখানেই আওযামী লীগের লোকেরা তাদেরকে ব্রিফ করছেন, যেন তারা সবাই আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে।’
জি এম কাদেরের অভিযোগ, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেসব স্থানে গেছেন, সেখানে যেভাবে নৌকার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তাতে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) যখন বলে গেছেন তখন তো তাকেই প্রশাসন পাশ বা ডিক্লিয়ার করে দিবে। তাই আমরা যতই পপুলার হই তাতে কোন লাভ হবে না।’ জি এম কাদের বলেন, রংপুরের ছয়টি আসনের আমরা উইন হব। কিন্তু যেভাবে শুনছি, দেখছি, তাতে প্রশাসন প্রভাবিত হতে পারে। এই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগ জনক। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটানো না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার দুষ্কর হবে। তখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।‘ সন্ধায় তিনি মাহিগঞ্জ এবং স্টেশন এলাকায় পথসভা করে লাঙ্গলের ভোট প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, রংপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে দলটি। এখাটে জাতীয় পার্টি ছাড়াও বাংলাদেশ কংগ্রেস, এনপিপি, জাসদ ও একজন ট্রান্স জেন্ডার প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন।