মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রতিক বরাদ্দের পর থেকেই ক্রমেই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের নেতা কর্মীদের পাল্টা-পাল্টি অবস্থান ও হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাজশাহী-৪ (বাগমারা), ৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) এ আসনগুলোতে ইতিমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসমস্ত ঘটনায় অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে বলে জানাগেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রবিবার রাজশাহী-৪ বাগামারার ভবানীগঞ্জে নৌকা প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি ইঞ্জি এনামুল হকের নেতা কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় এ ঘটনায় ৭ জন আহত হয়। এই ঘটনায় নৌকা প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের পক্ষে বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান থানার ওসি তদন্ত সোয়েব খান । এছাড়াও একই ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের কাঁচি প্রতিকের পক্ষে থেকেও আরো একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর ২য় দিনেও বাগমারাপৃথক ৪টি স্থানে বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের প্রচারগাড়ি ভাঙচুর, পোস্টার লুট করে পুকুরে নিক্ষেপ ও প্রচারকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৪টি ঘটনায় আহত হয়েছেন কাঁচি প্রতীকের মোট ১৮ জন কর্মী। এসব ঘটনায় গাড়িচালক এমরান হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
একই দিন দুপুর ২টার দিকে বাগমারার যাত্রাগাছি এলাকায় কাঁচি প্রতীকের প্রচারণার সময় নৌকার প্রতিকের লোকজন কাঁচি প্রতিবেকর কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিকাল ৩টার দিকে গোবিন্দপুর এলাকায় কাঁচি প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে নৌকা প্রতীকের একদল কর্মী প্রচার গাড়িটি ভাঙচুর করে। এ সময় নৌকা প্রতীকের কর্মীরা প্রচারমাইক ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা গাড়িতে থাকা চার হাজার পোস্টার লুট করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে বাগমারার তাহেরপুর পৌর এলাকার কাঁচি প্রতীকের সাইকেল র্যালিতে হামলায় ৮ জন আহত হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক অভিযোগে বলেছেন, নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সন্ত্রাসী বাহিনী তার কর্মীদের ওপর চারটি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নির্বাচনের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কেউ হামলা চালায়নি
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, পুলিশ অভিযোগগুলোর তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী ৫ ( পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে (১৯ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার রাত ৯টা। উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে। আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের নাম আব্দুর রাজ্জাক (৩১)। তিনি যুবলীগ নেতা। এঘটনায় ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তপুর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে, রাজশাহী-৬ আসনের (চারঘাট বাঘা) স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হকের নির্বাচনী অফিস ও মাইক ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারঘাটের শলুয়ার বামনদীঘা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করা হয় ও পোষ্টা রছিড়ে ফেলা হয়। এছাড়াও মালেকার মোড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচার মাইকের তার ছিড়ে ফেলে ও অটোগাড়ি ভাংচুরসহ গাড়ির চালককে লাথি মারা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হানুল হক অভিযোগ করে বলেনএসব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হবে।
এদিকে পাল্টা-পাল্টি হামলা ও অভিযোগ হওয়ায় এ সমস্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই উৎতপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন স্বাভাবিক রাখতে গতকাল সোমবার থেকেই বিপুল সংখ্যক বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রির্টানিং অফিসার উজ্জল হোসেন জানান, প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোন অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।
রাজশাহীতে মহানগরীতে আ.লীগ নেতার হোটেলে অসামাজিক কাণ্ড: আটক ২২ শিক্ষার্থী
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে এক আওয়ামী-লীগ নেতার আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নগরীর বোয়ালিয়া থানার গণকপাড়ায় অবস্থিত হোটেল গ্রান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা সকলেই বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা সকলেই হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলো।
হোটেলটির মালিক আবুল বাশার সুজন। তিনি তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্বাচনী সমন্বয়ক।
পুলিশ জানায়, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার আরজিনা খাতুনের নেতৃত্বে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে ওই হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে পুলিশ। এসময় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ২২জন তরুণ-তরুণী আটক করা হয়। আটককৃতরা সকলেই শিক্ষার্থী।
বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, আটককৃত শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের পরিবারকে ডাকা হয়েছে। মালিককেও ডাকা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।