দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল দ্রুত বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন পেশাজীবী নেতারা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
নির্বিচারে পেশাজীবীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ, একতরফা নির্বাচনের তফসিল বাতিল, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএসপিপি। পরে একটি মিছিল বের করেন পেশাজীবী নেতারা।
বিএসপিপির সাবেক আহ্বায়ক সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও বিএসপিপির সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, ডা. আবদুল কুদ্দুস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো: শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো: খুরশিদ আলম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সভাপতি প্রকৌশলী মো: রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অধ্যাপক শামসুল আলম ও অধ্যাপক মো: কামরুল আহসান, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন ও ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. এমএ সেলিম, ডা. শহিদ হাসান, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. মো: মেহেদী হাসান, ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের অধ্যাপক ড. এসএম শামীম আহমেদ, ইসরাফিল প্রাং রতন, ড. সিরাজুল ইসলাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুর রহমান, প্রকৌশলীদের মধ্যে আলমগীর হাসিন আহমেদ, মো: মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, মাহবুব আলম, কৃষিবিদদের মধ্যে অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, শফিউল আলম দিদার, ডিইউজের রাশেদুল হক, সাঈদ খান, রফিক লিটন, মো: আল-আমিন, ডাক্তারদের মধ্যে ডা. রফিকুল কবির লাবু, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. তৌহিদুল ইসলাম, ডা. শহিদুল ইসলাম শহীদ, ডা. সাজিদ ইমতিয়াজ হোসেন, ডা. রুস্তম আলী মধু, ডা. এম এ কামাল, ডা. দিদারুল আলম, ডা. মো: নজরুল ইসলাম, ডা. আজহারুল ইসলাম, ডা. সামিউল ইসলাম সোহান, ডা. মাহমুদ আলম তারিক, ডা. তারিকুল ইসলাম তারিক, ডা. হুমায়ূন কবির প্রিন্স, ডা. আরেফিন রঞ্জু, ডা. রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ডা. শেখ মাহাবুব, ডা. গাজী মাহাবুবুর রহমান, ডা. কাইফি আজিজ রতনসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। দেশের মানুষ কখনোই সে ধরনের নির্বাচন চায় না। জনগণ চায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। তারা চায় অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এই দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবী, শিক্ষককে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল করতে হবে। নতুন তপশিল ঘোষণা করতে হবে। যে নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।7 সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজকে পেশাজীবীদের নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়ন করা হচ্ছে। কারণ, আমরা জনগণের পক্ষে ও গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলি। আপনারা পেশাজীবীদের গ্রেফতার করবেন আবার নির্বাচন করবেন। এটা ভুলে যান যে দেশে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন আর হবে না। সুতরাং নির্বাচনের তফসিল বাতিল করুন। আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অবিলম্বে তফসিল পেছান। একইসাথে পেশাজীবীদের ওপর হামলাসহ নির্যাতন বন্ধ করুন এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।