মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যালী ও কালো পতাকা মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদ। নির্বাচনী তফসিল বাতিলের দাবিতে এ মিছিল করেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোড থেকে র্যালীটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিণ করে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এসময়ে শিকবৃন্দ বলেন, আওয়ামী সরকার ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এবং ২০১৮ সালে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে অবৈধ ও নির্লজ্জভাবে শাসনমতা জবরদখল করে। বিএনপিসহ বেশিরভাগ বিরোধী দল ও অধিকাংশ জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে মতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। আজকের নতুন প্রজন্ম তাদের ভোটাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে না। দেশে আজ দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার, বিরোধী মত দমন, গুম, খুন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ।
বাংলাদেশ আজ গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরাচারি রাষ্ট্রের কাতারে নাম লিখিয়েছে। এমনকি আগামি ২০২৪ এর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলকে গ্রেফতার, মামলা, হামলা, নির্যাতন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখে একতরফাভাবে আরেকটি নির্বাচন করতে চাচ্ছে সরকার।
শিকবৃন্দ মনে করে এই একতরফা তফসিল আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট শাসনকে নবায়ন করে সমগ্র জাতিকে অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে। প্রতিবাদ সভায় শিকবৃন্দ ষড়যন্ত্রমূলক একতরফা তফসিল অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা, কারাবন্দি বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান ও নিরপে নির্বাচনের লে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
একইসাথে নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতিসংঘসহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের বন্ধু রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর পরামর্শ ও আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে দেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর দাবি জানান।
রাবি জিয়া পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহান এর সঞ্চালনায় র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন রাবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হক সহ অর্ধশতাধিক শিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ বলেন, বাংলাদেশের নিবার্চন কমিশনার যে গণবিরোধী তফসিল ঘোষণা করেছে তা বাতিলের দাবিতে জিয়া পরিষদের আজকের এমর্যালি ও কালো পতাকা মিছিল। বর্তমানের অবৈধ সরকার ২০১৪, ২০১৮ সালের ধারাবাহিকতায় ভোটার বিহীন প্রহসনের নির্বাচন ও রাতের ভোট করে সরকার আর একটি নির্বাচন করে দেশটাকে আরো সংকট ও অনিশ্চিতের দিকে ঠেলে দিবে। এই গণবিরোধী তফসিল বাতিল করে আলোচনার ভিত্তিতে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হক। তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ এর মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া যাবে না। আমরা নিশ্চিত এই সরকারের অধীনে যদি আবারও নির্বাচন হয় তাহলে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের জনগণের মতো নির্যাতন এদেশের জনগণকেও সহ্য করতে হবে। বর্তমানে বিএনপির সাধারণ মানুষ ও শিকগণ রাতে ঘুমাতে পারেন না। সেেেত্র নির্বাচন কমিশন কীভাবে তফশিল ঘোষণা করে। অবিলম্বে এই তফশিল বাতিল করতে হবে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দিতে হবে।