বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে বগুড়া-ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছিলো বিএনপি দখলে। সকাল ৭টা থেকে মাটিডালি বিমান মোড় এলাকা ও আরেকটি অংশ শহরের দেিণ লিচুতলা দ্বিতীয় বাইপাস মোড়ে বিএনপির কয়েক’শ নেতাকর্মী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় পুরো রাস্তায় কোনো ধরনের দূরপাল্লার বাস-ট্রাক যাতায়াত করতে দেখা যায়নি। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বগুড়ায় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বগুড়ায় অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে। এদিকে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ গুলি ছুড়লে যুবদলের বেশ কিছু নেতা-কর্মী আহত হন বলে জানান বিএনপির নেতারা। সকাল ৭টার দিকে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে নেতা–কর্মীরা শহরের উত্তরে মাটিডালী মোড়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অপর দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ও কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর হেনা নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের আরেকটি অংশ শহরের দেিণ ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের লিচুতলা দ্বিতীয় বাইপাস মোড়ে অবস্থান নেন। এতে রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী বেশ কিছু যানবাহন লিচুতলা বাইপাস মোড়ে আটকা পড়ে।
জানা গেছে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার কারণে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় কিছু যানবাহন দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক ধরে উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে থাকে। পুলিশ যানবাহনগুলো মাটিডালী মোড় পার করে দেওয়ার পর মহাসড়কে বাঘোপাড়া খোলারঘর এলাকায় অবরোধকারীদের কবলে পড়ে। অবরোধকারীরা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা সেখানে পৌঁছলে অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছোড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টা সংঘর্ষের পর অবরোধকারীরা পিছু হটে।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, এই সরকার লুট করে ধ্বংস করে দিয়েছে দেশটাকে। এর থেকে এ দেশের মানুষ মুক্তি চায়। সেই কারণে তিনদিনের অবরোধ দেয়া হয়েছে আমরা জনগণকে বলতে চাই, এই তিনদিন আপনারা একটু কষ্ট করুন। এই কষ্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সুফল বয়ে আনবে।

লিচুতলা এলাকায় অবস্থান যুবদল নেতা আহসান হাবিব মমি বলেন, ‘এখানে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ আকস্মিকভাবে শটগানের গুলি ছুড়লে যুবদলের বেশ কিছু নেতা-কর্মী আহত হন।’
এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলা থেকে যুবলীগের ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী পুলিশ প্রোটেকশনে মোটরসাইকেলে বনানীর দিকে আসছিলেন। লিচুতলা বাইপাস মোড়ে অবরোধকারীরা তাঁদের ধাওয়া দিলে তাঁরা তিনটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরে অবরোধকারী মোটরসাইকেল তিনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করে অবরোধকারীদের ছত্র ভঙ্গ করে দেয়।
বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ রুবেল বলেন, বাঘোপাড়া খোলার ঘর এলাকায় মহাসড়কে নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে গুলি ছোড়ে। এ সময় নেতা-কর্মীরা কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। মহাসড়কে সকাল থেকেই পুলিশ র্যাব, বিজিবি টহল চলছে। বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছাড়া তেমন যানবাহন চলাচল করছে না। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সকাল থেকে ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠি সোঁটা হাতে শহরের টেম্পল রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে সাত মাথায় মুজিব মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করে।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান বলেন, বাঘোপাড়ায় বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে মহাসড়ক যান চলাচল শূন্য হওয়ায় শতশত মানুষ পায়ে হেঁটে তাদের গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নারী, শিশু এবং বয়স্ক মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া বের হয়নি ।
তবে অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ পরিবহনকারী যানবাহন ছেড়ে দেয় ।