বগুড়ায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে দিয়ে বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত। বগুড়ায় হরতাল চলাকালে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোড়ে। আজ রোববার সকালে বগুড়া শহরের নবাববাড়ী সড়কে ও টেম্পল রোডে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হরতালের সমর্থনে রোববার সকাল ১০টার দিকে দলীয় নেতা-কর্মীরা শহরের নবাববাড়ী সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল নিয়ে বের করে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে সকাল ১১টার দিকে ‘যুবলীগের নেতা-কর্মীরা শহর বিএনপি অফিসে হামলা করে ভাঙচুর শুরু করলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া করলে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার ছেল ছোড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাড. আব্দুল বাছেদ, বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ন- সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ-উন নবী সালাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, বগুড়া শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম, যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম শুভ, সদস্য সচিব আবু হাসান, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, বগুড়া শহর যুবদলের আহ্বায়ক আহসান হাবিব মমিসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

এদিকে সকাল ৯টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের রানার প্লাজার সামনে গেলে লাঠিপেটা করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি রাবার বুলেটও ছোড়ে। এতে ছাত্রদলের পাঁচ কর্মী আহত হন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। মিছিলটি রানার প্লাজার সামনে পুলিশ লাঠিপেটা করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে ছাত্রদলের অন্ত পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হন।’ তবে পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, ছাত্রদলের মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাঁদের নিবৃত্ত করতে রাবার বুলেট ছোড়ে।
অন্যদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন জানান, তাঁদের নেতা-কর্মীরা সকাল থেকেই সাতমাথা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সকাল ১০টার দিকে গালাপট্টি এলাকায় শহর বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী সমবেত হয়ে দুটি যানবাহন ভাঙচুর করেন। এরপর তাঁরা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। তবে শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা শহর বিএনপি অফিসে হামলা করে ভাঙচুর শুরু করলে পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে বিএনপির ডাকা হরতালে মহাসড়কে কোনো পিকেটিং না থাকলেও বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ ছিলো । বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোনো বাস চলাচল করে নাই। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ ছিলো। স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরাফত ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ তৎপর আছে। সকালে ছাত্রদলের মিছিল থেকে পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।