1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও বীজ সুরার দাবি বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর

  • সম্পাদনার সময় : সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১০৯ বার প্রদশিত হয়েছে

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীর তানোর উপজেলার থানতলা গ্রামে একত্র হয়েছিলো বরেন্দ্র অঞ্চলের আদিবাসী- বাঙ্গালীসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্টীর মানুষ। বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৩ উপল্েয তাঁরা বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও বীজগুলো প্রদর্শন করেন। এই আয়োজনলে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ)।
উক্ত খাদ্য ও বীজ সুরার অনুষ্ঠান উপল্েয রাজশাহীর থানতলা, কঁচুয়া, মাহালীপাড়া ও পিরনপুকুর গ্রামের নারীরা তাঁদের স্থানীয় বীজ ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্য গুলো সুরার জন্য একটি মেলার আয়োজন করেন। এ কাজে সহযোগি সংগঠন হিসেবে অংশগ্রহন করেন থানতলা আদিবাসী নারী উন্নয়ন সংগঠন, মাহালীপাড়া বাঁশ বেত উন্নয়ন সংগঠন ও পিরন পুকুর নারী উন্নয়ন সংগঠনসহ বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন ফোরাম।
জলবায়ু পরিবর্তন, বীজের উপর বাজার নির্ভরশীলতাসহ নানা কারনে স্থানীয় জাতের বীজ গুলো আজ বিলুপ্তির পথে। আজ বাড়ীর আঙ্গিনায় নারীরা যে সবজি চাষ করে সে সবজির বীজও আজ বাজার থেকে ক্রয় করতে হয়। অথচ এই বীজ গুলো আদিকাল থেকে নারীরাই সুরা করে আসছে। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসেছে আদিবাসীসহ প্রান্তিক জনগোষ্টির অনেক বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী খাদ্য। জলাভূমি কমে যাওয়া একমুখি ফসলের বানিজ্যিক চাষ, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও আগাছা নাশকের ব্যাবহার এর অন্যতম কারন।
তাই স্থানীয় বীজ ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সুরার দাবি নিয়ে নারীরা“ঐতিবাহী খাদ্য ও বীজ মেলার আয়োজন করেন। সেখানে ১৫জন বাঙ্গালী নারী স্থানীয় বীজ নিয়ে অংশগ্রহন করেন এবং ১৫জন আদিবাসী নারী তাঁদের ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে অংশগ্রহন করে একটি ব্যাতিক্রমি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। যেখানে সব থেকে বেশি ধরনের খাদ্য বা বীজ উপস্থাপন করে প্রথম হওয়ার নিয়ম করেন নারীরা।
পাশাপাশি যেখানে ছোট ছোট ফেস্টুনে স্থানীয় এ বীজ ও খাবার সুরার বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন। ৪৫টি বৈচিত্র্যময় অচাষকৃত সবজি, শাক,ফল ও রান্না করা ঔতিহ্যবাহী খাদ্য উপস্থাপন করে প্রথম হন থানতলা আদিবাসী নারী উন্নয়ন সংগঠনের সদস্য সোহাগী কিস্কু(৪৮) তিনি বলেন“আগের মতো আর আমরা এই খাবার গুলো পাই না। এখন অনেক সময় ব্যায় করে অনেক দূরে দূরে গিয়ে খাবার গুলো সংগ্রহ করতে হয়। আজ আমি এখানে অংশগ্রহন বুঝলাম যে এই খাবার গুলো হারিয়ে গেলে আমাদের কতো সমস্যা হবে”।
পিরনপুকুর নারী সংগঠনের সদস্য মর্জিনা বেগম(৪০) ৪৯টি স্থানীয় জাতের সবজি,তেল, মসলা ও ধান বীজ উপস্থাপন করে বীজ ক্যাটাগরিতে প্রথম হন। তিনি বলেন“ আমি আমার বাড়ির আঙ্গিনায় সারা বছর মৌসুমি শাক-সবজির চাষ করি। আগে বীজ বাজার থেকে কিনতাম এখন আর বাজার থেকে বীজ কিনি না। আমার সংরনকৃত বীজ নিজে চাষ করে বেশি হওয়া বীজ গুলো অন্যদের মাঝে বিনিময় করি। আমি আমার বাড়িকে স্থানীয় বীজ বাড়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।
স্থানীয় বীজ ও খাদ্য সুরায় প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও করনীয় বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরতে বারসিক’র গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বলেন, ‘ স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদসহ খাদ্য বৈচিত্র্যগুলো সুরা হলে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হয়। পরনির্ভরশীল বীজ ও খাদ্য কখনই একটি জনপদের দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনা। তিনি ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানীয় মানুষের চাহিদা বিবেচনায় বীজ ও খাদ্যের সার্বভৌমত্ব গড়ে তুলতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ নিতে আহবান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies