বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আলোর দেখা পাচ্ছি, সামনে আমাদের দিন আসছে। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে ইনশাআল্লাহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব। শুক্রবার বিকালে গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেটের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত গণমিছিলের আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, কী কারণে আজকে এত জনসমাবেশ? কী কারণে এত লোক হচ্ছে মিছিল-মিটিংগুলোতে? আমাদের নেতা কিংবা কর্মী সবাই কিন্তু মিছিলে নাই। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আজকে এই মিছিলে যোগদান করেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের সব অস্ত্র ভোঁতা হয়ে গেছে, এ অস্ত্র আর কাজ করবে না। বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করতে শিখেছে, তারা দাবি আদায় করতে শিখে গেছে। সুতরাং আমাদের ভয় নাই।
তিনি বলেন, আজকে যখন আমরা ভোটের কথা বলি, গণমানুষের কথা বলি, আমাদের ছেলেরা রাজপথে নামে তখন তারা (সরকার) গুলি করে, টিয়ারশেল মারে, হত্যা করে, গুম করে। গতরাতে এই এলাকা থেকে বহু ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণেও বহু ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকারকে দেশবাসী আর দেখতে চায় না। ১৫টি বছর এই ভয়ংকর, স্বৈরাচারী একটা সরকার আমাদের কাঁধে চেপে বসেছে। নড়া দিলেও সরে না, ধাক্কা দিলেও পড়ে না। তাদের টেনেহিঁচড়ে এখান থেকে নামাতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, আজ আমরা সমবেত হয়েছি সরকারকে লাল পতাকা দেখানোর জন্য। লাল পতাকা দেখালে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হয়। আজ ১২ কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিনা ভোটের সরকারের অত্যাচারে, নির্যাতনে দেশের মানুষ অতিষ্ট। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে আমাদের যাদের খুন করা হয়েছে, আমরা তাদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে চাই। আমরা এই সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এতে আরো অংশ নেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, যুগ্ম-সচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার প্রমুখ।
গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।
ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এই গণমিছিল গুলশান-১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট থেকে তিতুমীর কলেজের সামনে দিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে শেষ হয়।