মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে হেলমেট ছাড়া কোন মোটরসাইকেল চলতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে মহানগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে হেলমেট ছাড়া তেল না দিতে। আপনার ও আপনার সন্তানদের চলাচল নির্বিঘœ ও চলাচল নিরাপদ করতে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। পুলিশ সমাজের একমাত্র পরিবর্তন করার কেউ না। পরিবার ও বিশেষ করে শিক্ষক তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
বুধবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে আরএমপি পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার ট্রাফিক আইন প্রতিপালন সংক্রান্ত চালাক ও অভিভাববদের সচেতনা সভায় উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, ঢাকার প্রতিটি মোটরসাইকেল চালক ও পেছনের যাত্রীরা হেলমেট নিয়ে চলাচলে অভ্যস্ত। ঢাকার এতোলোক যদি এটাতে অভ্যাস্ত হতে পারে তাহলে রাজশাহীর ৫/৬ লাখ মানুষ কেনো পারবে না। হেলমেট নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য। নো হেলমেট নো ফুয়েল এই কার্যক্রম প্রথমে ঢাকায় শুরু হয়ে সফল হয়েছে। আমার ধারণা রাজশাহীতেও সফল হবে।
পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, এই অভিযান শুরু হয়েছে এটা নাগরিকদের শৃঙ্খলা ও সড়ক নিরাপদ রাখার জন্য। আপনারা সচেতন ও সহযোগিতা করলে এই শহর হবে নিরাপদ। আগামী দিনে এই সচেতনা কার্যক্রম স্কুলে চালু করবো। সপ্তাহ খানের মধ্যে আমাদের অফিসাররা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় চলাচল ও ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতন করার কথা বলেন।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, আপনার সন্তানদের ১৮ বছরের আগে মোটরসাইকেল কিনে দিচ্ছেন তা ঠিক না। হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছে তা ঠিক না। আপনার সন্তানদের জন্য আপনাদের মায়া থাকতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াও সড়কেমোটার সাইকেল না চলাতে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজশাহী মহানগরীর রাস্তা অনেক প্রশস্ত হওয়ায় নিয়ম মেনে যানবাহন চালানো খুবই সহজ। ট্রাফিক সিঙ্গ্যাল মেনে চলা, বাম লেন ফ্রি রাখা এবং মোড়ের ২০ গজ দূরে গাড়ী দাঁড় করানো এসব নিয়ম-কানুন মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। আপনাদের পরিবারের সদস্য ও পরিচিত জনদের সতেচন করবেন। সকলের সহযোগিতায় এই সবুজ সুন্দর নগরীতে একটি উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উপহার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। আগামীতে স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন, রাস্তা পারাপার, ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
ইতোমধ্যে সাংবাদকিদের সচেতন ভূমিকায় আমরা পদ্মানদীর ধারসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে স্কুল ড্রেস পড়ে যারা ঘুরছে তাদের সচেতনা করছি। এছাড়াও তাদের তাদের অভিভাবকদের ডেকে জিম্মায় দিচ্ছি। এমন অভিযান চলমান থাকার কথাও জানান পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।
পরে চালক ও অভিভাববদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পুলিশ কমিশনার। এসময় উপস্থিত ছিলেল, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক, ট্রাফিক পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার অনিবার্ন চাকমাসহ পুলিশের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।