মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: লাভজনক আবাদ হিসেবে পরিচিত ভুট্টার এবারও ভালো ফলন হয়েছে রাজশাহীতে। ইতোমধ্যেই ভুট্টার কাটা-মাড়াইসহ বেচাবিক্রি জমে উঠেছে। শুরু থেকেই ভালো দামও রয়েছে। এতে খুশি চাষীরা। চাষীরা বলছেন, এবার প্রতিমণ কাঁচা ভুট্টা ৯’শ টাকা এবং শুকনা ভুট্টা ১১’শ থেকে ১৩’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলার নয়টি উপজেলা ও মহানগরীর দুটি থানায় এবার ১৬ হাজার ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন। অল্প খরচে ও অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনকারী ফসল হওয়ায় কৃষক গম কাটার পরে খরিপ মৌসুমে ভুট্টা লাগিয়েছেন। কৃষকদের চাষাবাদের তালিকায় উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত এনএইচ-৭৭২০, এনকে-৯৪০, সুপার সাইন-২৭৪০ ও এম গোল্ড-৯০০ বেশি রয়েছে।
কৃষি বিভাগের মতে, দেশে ভুট্টার মৌসুম দুটি। একটি রবি মৌসুম ও আরেকটি খরিপ মৌসুম। রবি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভুট্টার বীজ বপণ করা হয়। খরিপ মৌসুমে এই অঞ্চলে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ভুট্টার বীজ বপণ করা হয়। বীজ বপণের পর ভুট্টা পেতে সময় লাগে প্রায় চার মাসের মতো। ভুট্টার বিঘাপ্রতি ফলন হয় ২২ থেকে ২৫ মণের মত। এবারও আবহাওয়া ভালো থাকায় ২২ মণের উপরেই ফলন হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয়েছে বাগমারাতে। ৩ হাজার ৭১১ হেক্টর জমিতে ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩১১ মেট্রিক টন। এছাড়া পুঠিয়াতে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৩২ মেট্রিকটন। গোদাগাড়ীতে ৩ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ১২৭ মেট্রিকটন। পবাতে ২ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৪২ মেট্রিকটন। চারঘাটে ১ হাজার ৮৮৬ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২৬৫ মেট্রিকটন। বাঘায় ৯৫২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৪০ মেট্রিকটন। দুর্গাপুরে ৮১৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৬৪ মেট্রিকটন। মোহনপুরে ১৭৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ মেট্রিকটন। তানোরে ৩২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০৬ মেট্রিকটন। এছাড়া নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় ২৬ হেক্টর জমিতে ১৭৪ মেট্রিকটন ও মতিহারে ১১ হেক্টর জমিতে ৮১ মেট্রিকটন ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের চাষি ইউসুফ আলী বলেন, প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে থেকে অল্প অল্প করে ভুট্টার আবাদ শুরু করি। লাভজনক হওয়ায় সময়ের ব্যবধানে চাষের জমির পরিধি বাড়িয়েছি। প্রতি বিঘার বিপরীতে তার খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। এরমধ্যে বীজ, সার, পানি, জমি প্রস্তুত, লাগানো, শ্রমিক মজুরি, কাটা-মাড়াইসহ আনুষাঙ্গিক খরচ রয়েছে। প্রতি বিঘায় ২০ মণ করে ফলন হয়েছে। দাম ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় তিনি খুশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ভুট্টার ফলন ও চাহিদা দু’টিই ভালো। একারণে ফসলটির আবাদ দিন দিন বাড়ছে।