1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
পাকিস্তানে ‘ভারতসমর্থিত’ ৪১ সন্ত্রাসী নিহত: আইএসপিআর জয়পুরহাটে আবারো কাটা তারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই-লক্ষ্মীপুরে জামায়াত আমির ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান বগুড়ার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুম্মার নামজ আদায় করলেন তারেক রহমান যে যার অবস্থান থেকে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান তারেক রহমানের বিএনপি সরকার গঠন করলে শুধু বগুড়া নয় সারাদেশে উন্নয়ন করা হবে- তারেক রহমান আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব- তারেক রহমান প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না-জামায়াত আমির

রাজশাহীর ঘরে ঘরে সুদের কারবার, জিম্মি করে সুদ আদায়, নিঃস্ব হয়ে পড়ছে মানুষ

  • সম্পাদনার সময় : মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩
  • ৩২৬ বার প্রদশিত হয়েছে

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে স্থানীয় পর্যায়ে ঋণ নিয়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে জিম্মি করে সুদ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় সোমবার সুদ কারবারীর একজনের বাড়ি ঘেরাও করে ভুক্তভোগীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাগনরীর বোয়ালিয়া থানার কেদুর মোড়, হাদির মোড়, পঞ্চবটী এলাকাজুড়ে ঘরে ঘরে চলছে এই সুদের কারবার। সেখানে দিনভিত্তিক সুদের কারবারও হয়। কারও কাছ থেকে এক দিনের জন্য ১০ হাজার টাকা নিলে পরের দিনই ১ হাজার টাকা সুদ দিতে হয়। আর হাজারে সাপ্তাহিক ২০০ টাকার সুদ ওই এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলছে। আর এই উচ্চ হারের সুদে টাকা ঋণ নিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ।
কেদুর মোড়ের বাসিন্দা মেহেরজান নামের এক নারী বলেন, তাঁদের এই এলাকার মানুষ নানা জায়গা থেকে কিস্তির টাকা তোলেন। কেউ মেয়ে বিয়ে দেন, কেউ ঘর করার জন্য টাকা নেন। কারও সন্তান মাদক খেয়ে, জুয়া খেলে টাকা খুইয়ে ফেললে ঋণ নিতে হয়। এককথায় ঋণ নেওয়ার মানুষের অভাব নেই।
আফজাল হোসেন নামের একজন বলেন, এই এলাকায় নারীরাই সুদের কারবার করেন। নারীরাই নানা কৌশলে সুদের টাকা তোলেন। আবার নারীরাই ঋণ নেন। কারও পাঁচ-দশ হাজার টাকা থাকলেই সুদের ব্যবসা শুরু করেন।
ঋণগ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন, তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজনে তারা মোহনা মাহি নামের একজন সুদ কারবারির কাছ থেকে ঋণ নেন। সাপ্তাহিক সুদ প্রতি হাজারে ২০০ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। ঋণ দেওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরের সপ্তাহ থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করেন তারা।
কিন্তু আসল টাকা পরিশোধ করতে চাইলে মোহনা মাহি নেন না। সুদের টাকা জমা দেওয়ার কোনো কাগজপত্রও দেন না। এভাবে নানা কৌশলে তিনি গত কয়েক মাসে ২০-৫০ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত সুদ নিয়েছেন। কিন্তু আসল আর শেষ হয় না। চেকের মামলার ভয় দেখিয়ে এই টাকা নিতেই থাকেন তিনি।
এর আগে গত শনিবার নগরের কেদুর মোড় এলাকায় সুদের কারবারির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী ঋণগ্রহীতারা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুবিনা বেগম, কোহিনুর বেগম, বেলি বেগম, কমেলা বেগম, সেলিনা বেগমসহ অন্তত ১০ জন নারী।
রুবিনা বেগম দাবি করেন, তিনি বিপদে পড়ে ৬ মাস আগে মোহনা মাহির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সে সময় মোহনা তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ফাঁকা চারটি ব্যাংক চেক নেন। পরের সপ্তাহ থেকে তাকে সুদ দেওয়া শুরু করেন। সপ্তাহে তাকে সুদ দিতে হয়েছে দুই হাজার টাকা। এভাবে ছয় মাসে তাঁকে ৫৪ হাজার টাকা সুদ হিসেবে দিয়েছেন। এখন বলছেন আরও টাকা দিতে হবে। ফাঁকা চেকও ফেরত দিচ্ছেন না। মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। এ জন্য তিনি গত শনিবার নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
কেদুর মোড় এলাকার কোহিনুর বেগম বলেন, ৩০ হাজার ঋণ নিই। পাঁচ মাসে ৬০ হাজার টাকা সুদ দিয়েছেন। এরপর তিনি আর সুদের টাকা দিতে পারেননি। টাকা না দেওয়াতে তাঁর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চেকের মামলা করেছেন মোহনা মাহি। এখন পর্যন্ত তিনবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। সুদের কারবারি আরও টাকা চান, কিন্তু ফাঁকা চেক ফেরত দিচ্ছেন না।
একইভাবে ওই এলাকার বাসিন্দা কমেলা বেগম ও সেলিনা বেগম সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার কথা জানান।
যোগাযোগ করা হলে সুদ কারবারি মোহনা মাহি বলেন, তারা ফাঁকা চেক দিয়ে টাকা নিয়েছেন। এখন টাকা চাইতে গেলে গালাগালি করছেন। বাড়িতে লোকজন নিয়ে আসছেন। কেউ টাকা দিচ্ছেন না, অথচ তারা চেক জমা দিয়ে টাকা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি তাঁদের বিপদে টাকা দিয়েছেন। কোনো সুদ নেননি। উল্টো তাঁরা টাকা নিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। তিনি এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।
নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, তাঁরা ওই এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছেন। যদি ফাঁকা চেক জমা রেখে জিম্মি করে টাকা আদায় করেন, তাহলে তাঁরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। এই এলাকার ঘরে ঘরে সুদের ব্যবসা চলে বলেও জানান ওসি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies