মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: এখনো কাঁচা মরিচের দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। কোরবানি ঈদের আগে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয় কাঁচা মরিচ। ঈদের পর সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বিক্রি হয় কাঁচা মরিচ। এরপর মাঝখানে দাম কমলেও শনিবার (৮ জুলাই) রাজশাহী নগরীর বাজারগুলোতে মরিচ বিক্রি হয় ৪০০ টাকা কেজি দরে। গেলো সপ্তাহে ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পর কাঁচা মরিচের দাম নেমে এসেছিল ২০০ টাকা কেজিতে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ফের মরিচের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা। বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা বলছেন, দাম কমতে একটু সময় নেবে। আমদানি কম হওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। তবে খুব দ্রুত কমে যাবে।
আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। সরবরাহ বেশি হলে মরিচের দাম কমে যাবে। নগরীর মাস্টারপাড়ার আড়তদার মাইনুল ইসলাম বলেন, গত মাসে রাজশাহীতে প্রচ- তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির কারণে মরিচ সরবরাহ একেবারে কমে যায়। ফলে বাজারে দাম বেড়েছিল কয়েকগুণ। সবগুলো বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে সেগুলোর সরবরাহ কম রাজশাহীতে। সরবরাহ বেড়ে গেলেই দাম কমতে শুরু করবে। আপাতত এই দাম আরও কয়েকদিন থাকবে।
সাহেববাজারের খুচরা বিক্রেতা আহমেদ আলী বলেন, আমরা সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করেছি। আড়তে গিয়ে চাহিদা মতো মরিচও পাইনি। কয়েকদিনের তুলনায় একটু দাম কমেছে। প্রতিকেজি মরিচ পাইকারিতে কেনা ৩৬০ টাকা। বিক্রি করছি ৪০০ টাকা কেজিতে।
রাজশাহী জেলা বাজার মনিটিরিং কর্মকর্তা মনোয়ার হেসেন বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে মরিচের আমদানি একেবারে কমে গেছে। এ কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পাইকারি বাজারে মরিচ রকম ভেদে ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজশাহী জেলায় যে মরিচ উৎপাদন হয় এতে ৫ থেকে ৬ মাস চলে যায়। এরপর বাকি সময় চলতে হয় বগুড়া থেকে সরবরাহ করা অথবা আমদানি করো মরিচ দিয়ে। এ ছাড়ও গত কয়েক দিন ধরে যে সব মরিচ দেশে আসছে এগুলো খুব কম সংখ্যক রাজশাহীতে আসছে। ফলে রাজশাহীতে দাম কমতে একটু সময় লাগছে। আমরা বাজার মনিটরিং করছি। আশা করছি সরবরাহ বেড়ে গেলেই দাম কমতে শুরু করবে।
এদিকে, এ সপ্তাহে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকায়, আদা ৩২০ টাকা, রসুন দেশি ২৫০, ভারতীয় রসুন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহে সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি, দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। পটল ৩০ টাকা কেজি, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা, কাকরোল ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০, করোলা ৪০, শশা ৫০ টাকা, বরবটি ৫০, সজনে ৫০, ঝিঙে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহজুড়ে বয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকায়। লাল সোনালি মুরগি প্রতিকেজি ২৫০ টাকা, দেশি মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া পাতিহাঁস পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজিতে। এদিকে, অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। তবে এই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ডিমের। ফার্মের মুরগির প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, সাদা ডিম ৪৪ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৬০ ও হাঁসের ডিম ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের দামও কিছুটা বেশি। বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজিতে, বাগদা চিংড়ি ৭০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, চিংড়ি মাঝারি ৯০০ টাকা, প্রতি কেজি পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা, টেংড়া ৬০০ টাকা কেজি, শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, পাঙাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, চাষের কই প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকায়।