মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: আর মাত্র তিন দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। আগামী ২৯ জুন ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হবে ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশু ওঠেছে। তবে হাটগুলো ছিলো ক্রেতা শূন্য। ফলে অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন খামারিরা। তবে গত শুক্রবার থেকে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে পশুর হাটে। সোমবার (২৬ জুন) রাজশাহীর নগরীর কাটাখালি পশুর হাট যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সিটি হাটে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
তিন দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে ওঠেছে পশুর হাট। তবে দাম কমছে না কোরবানির পশুর। তারপরও কোরবানির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে এখন বেশিরভাগ মানুষই ছুটছেন হাটে।
হাটে একদিকে যেমন দর-দাম চলছে অন্যদিকে তেমন পশু কেনাবেচাও চলছে। তবে বাজারে মাংসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় কোরবানির পশুর দামও প্রায় দ্বিগুণ। খামারি ও ব্যবসায়ীরা মাংসের দামের কেজি হিসেবে পশুর দাম নির্ধারণ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দাম হাঁকছেন। আর দাম বেশি হওয়ায় কম বাজেটে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন।
আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা বেশি দাম দিয়েই হাটের সেরা পশুটিই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কোরবানির জন্য। সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন হারট মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজশাহীর কাটাখালি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির জন্য সবাই ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরুই বেশি খুঁঁজছেন। আর তাই বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরুর দামই বেশি। তবে এক লাখ টাকার নিচে গরু নেই বললেই চলে। মাঝারি আকৃতির গরুগুলো এক লাখ টাকার ওপরে দাম হাঁকা হচ্ছে। আর হাটে বড় আকৃতির গরুগুলোর দাম শুরু হচ্ছে দুই লাখ থেকে। শেষ সময়ে দাম কমতে শুরু করলেও এবারের চিত্র যেন সম্পূর্ণ উল্টো। তাই দাম নিয়ে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে পশুর হাটে।
রাজশাহী সিটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে মিনিট্রাক, নসিমন, করিমন ও ভটভটিবোঝাই গরু নিয়ে আসছেন মালিক, খামারি ও ব্যাপারীরা। দুপুর ২টার পরে এ হাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পশু কিনতে আসা ক্রেতা হেনা, মুন্টু ও রনি’র অভিযোগ, এবার একটুও দাম কমাচ্ছেন না বিক্রেতারা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে গো খাদ্যের দাম বেশি। ফলে বছরজুড়ে গরু লালন-পালন করতে খরচ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। তাই কোরবানির পশুর দামও বেড়েছে। এখানে তাদের কিছুই করার নেই। এজন্য ঊর্ধ্বমুখী বাজার ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন বিক্রেতারা।
দাম নিয়ে কথা বলতে গেলে গরু নিয়ে হাটে আসা পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের ব্যবসায়ী একরামুল হক বলেন, তার কাছে ৩ মণ ওজনের গরু আছে দাম ১ লাখ টাকা, ৪ মণ ওজনের গরুর দাম ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ৫ মণ ওজনের গরু দেড় লাখ টাকা। এছাড়া বড় গরুর দাম দুই লাখ টাকা থেকে শুরু।
রাজশাহী কাটাখালি হাটের ইজারাদার মোঃ আরিফ বলেন, ভারতীয় সীমান্ত বন্ধ। তাই হাটে ভারতীয় গরু নেই। বর্তমানে হাটে দেশি জাতের গরুতেই ভরপুর। তাই হাটে দেশি গরুই বিক্রি হচ্ছে বেশি। ঈদের শেষ সময়ে হাটে ক্রেতার সংখ্যাও বেশি। আজ থেকে চাঁদরাত পর্যন্ত রোজই পশুর হাট বসবে। এবার শেষ মুহূর্তেও দাম কমবে না বলে মনে করেন এ হাটের ইজারাদার।
উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার ফারুক হোসেন ডাবলু বলেন, হাটে ক্রেতাদের ভিড়ে জণসমুন্দ্রে পরিনত হয়েছে। তবে ভিড়ের তুলতায় বেচা-কেনা কম। তাছাড়া ভারতীয় সিমান্ত বন্ধ। তাই হাটে ভারতীয় গরু একেবারেই নেই। তবে ক্রেতাদের চাহিদা পূরুণে দেশি গরুর অভাব নেই। ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাঁকি। তাই শেষে পর্যন্ত মানুষ দেশী গরুই কিনছে। তবে শেষ মুহূর্তেও দাম কমবে না বলে মনে করেন সর্ববৃহৎ এ হাটের ইজারাদার।