রাতুল সরকার, রাজশাহী: জোরেশোরেই চলছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রচারনা। এই নির্বাচনে প্রার্থীরা ব্যবহার করছেন নারী কর্মীদের। তবে যে প্রার্থী বেশি টাকা দিচ্ছেন সে প্রার্থীর দিকে ছুটছেন নারী কর্মীরা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন চার প্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১২ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৬ জন। প্রচার-প্রচারনায় পুরুষ ভোটাররা এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ভর করছে নারী ভোটারদের ওপর। কারণ রাসিক নির্বাচনে এবার ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২ জন। তুলনায় নারী ভোটার বেশি। নারী ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে কর্মী বাহিনী। তারা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে এখানেও দেখা গেছে, যে প্রার্থী বেশি টাকা দিচ্ছেন তার পক্ষে খাটছেন কর্মীরা। নগরীর একটি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছেন পাঁচজন। সেখানে দেখা যায়, এক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদিন নারী কর্মীদের গণসংযোগ করার জন্য দিচ্ছেন ৭০ টাকা করে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দিচ্ছেন ১০০ করে। আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী নারী প্রতি দিচ্ছেন ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে। এতেই নারী কর্মীরা প্রার্থী বদল করছেন। যে বেশি দিচ্ছেন তার দিকেই ছুটছেন তারা। শুধু একটি ওয়ার্ডে না বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, আমাদের সাথে প্রভাবশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের সহযোগিতার করার অনেকে আছেন। জেতার জন্য ভোটের মাঠে টাকাও ছড়াচ্ছেন। কিন্তু আমার অর্থ কম। আর গণসংযোগ করার জন্য নারী কর্মীদের প্রয়োজন। তারাও যেখানে বেশি টাকা পাচ্ছে সেদিকেই ঝুঁকছে।
ওই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী বলেন, প্রভাবশালী প্রার্থী টাকা ছড়িয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন। আমাদের অর্থ কম তাই বেশি কর্মী দিয়ে প্রচারণা করতে পারছি না। ভোটের আগেও তিনি ভোট কিনতে পারেন। তাই আমরা সাবধানতা অবলম্বন ও দৃষ্টি আছে তার দিকে।
তবে এসব প্রচারে থাকছেন নারী নেত্রী ও পাড়ার ‘মোড়ল’ টাইপের কিছু নারী। প্রার্থীরা তাদের সাথে যোগাযোগ করে নারী কর্মী দিচ্ছেন। এতে বেশি লাভবান হচ্ছেন নারী মোড়লরা। তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে কম টাকা দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
ভোটে এক প্রার্থীর হয়ে গণসংযোগ করছেন রেনু (ছদ্দনাম)। তিনি বলেন, প্রথমে যে প্রার্থীর হয়ে কাজ করছিলাম তিনি ৫০ টাকা করে দিতেন। তখন অন্য প্রার্থীরা ৭০ ও ১০০ টাকা করে দিতেন। বাধ্য হয়ে বেশি টাকার জন্য আরেক প্রার্থীর হয়ে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের পাড়ার এক খালা আছেন তিনি এসব ঠিক করে দিচ্ছেন। তিনিই তিন প্রার্থীর জন্য একটি দল তৈরি করে দেন। এজন্য তিনি বেশি টাকা নিলে আমাদের কম টাকা দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক নারী মোড়ল বলেন, যে বেশি টাকা দেবে তার পক্ষেই কাজ করবো। কেউ যদি কম টাকা দিচ্ছেন তাকে কাজ বন্ধ করে দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ভোটে কে জিতবে না জিতবে তা দেখার বিষয় আমাদের না।
এই নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এমন চিত্র দেখা গেছে। সংরক্ষিত নারী প্রার্থীদের বেলাতেও এমন দেখা যাচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এক প্রার্থী বলেন, নারী কর্মীদের কাজ করাতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এবার তাদের চাহিদাও অনেক। তাদের মাথা (মোড়ল) বিভিন্ন সময় দাবি নিয়ে আসে। তাদের দাবি মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।