নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : গোল্ডেন-৮ পেয়ারার চাষ করে বিপুল সাফল্য পেয়েছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ সুন্দর খাতা গ্রামের মৃত: আব্দুর রহিমের পুত্র রেজাউল করিম। তার বাগানে উৎপাদিত পেয়ারা ডিমলা বাজারে বিক্রির পাশাপাশি আশপাশের বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হয়। ৩০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা এ পেয়ারবাগান থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় আড়াই লক্ষ্য টাকা মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশা করছেন রেজাউল করিম। কৃষি অফিসের কমকর্তা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের লোকজন প্রায় প্রতিদিন তার পেয়ারা ক্ষেত দেখতে আসেন।
সরেজমিনে গিয়ে পেয়ারা চাষি রেজাউল করিমের সাথে কথা বললে তিনি সংবাদকর্মীকে জানান, পৈতৃক ৩০ শতক জমিতে দুই বছর যাবত তিনি পেয়ারা সহ নানা ধরনের ফলের চাষ করে আসছেন। ২৫০ পিচ পেয়ারার চারা খুলনা থেকে এনে নিজ গ্রামে নিজস্ব জমিতে বাগান গড়ে তোলেন। গাছ লাগানোর পর প্রথম বছর অফ সিজনে মোটামুটি ফলন হয়। চলতি মৌসুমে তার বাগানে পেয়ারার ভালো ফলন হয়েছে।
গত দুই মাস ধরে তিনি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পেয়ারা বিক্রি করছেন। আগে একটু বেশি দাম পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রতি মন পেয়ারার পাইকারি দর ১৬ থেকে ১৮ শত টাকা। তার বাগানের পেয়ারা সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি বলে জানান তিনি।
রেজাউল করিমের ভাষ্যমতে গোল্ডেন-৮ পেয়ারার আবাদ যথেষ্ট লাভজনক। ৩০ শতক জমিতে পেয়ারা চাষে খরচ হয় ১ লক্ষ টাকা। বর্তমানে সে আড়াই লক্ষ টাকা মুনাফা পাবেন আশা করছেন।
পেয়ারা চাষ করে রেজাউল শুধু নিজে লাভবান হচ্ছেন তা নয়, এলাকার অনেক গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে এতে। লাভজনক হওয়ায় এলাকার অনেক কৃষকই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ সেকেন্দার আলী জানান, দক্ষিণ সুন্দরখাতা গ্রামের রেজাউল ইসলাম পেয়ারা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন এবং কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। তার সাফল্যে উপজেলায় নতুন কৃষি উদ্যোক্তা হতে অনেকেই আগ্রহী হবে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।