মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালের জাল এপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরির প্রতারক চক্রের ২সদস্যকে আটক করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের কাছ থেকে জাল এপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরির কাজে ব্যাবহৃত একটি কম্পিউটার, কালার প্রিন্টার ও স্ক্যানার উদ্ধার হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো: মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার শিরোইল মাস্টারপাড়া এলাকার শেখ মোঃ আবু সাঈদের ছেলে শেখ মোঃ এনামুল হাসান তাসিন (২০) ও কর্ণহার থানার শিশাপাড়া গ্রামের মোঃ ইসরাইলের ছেলে মোঃ রায়হান কবির (২১)। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রফিকুল আলম।
তিনি জানান, নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার মোহনঘোষ এলাকার মোঃ হেলাল আলী নামের এক ব্যক্তি ভারতে যাওয়া জন্য গত (৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টায় বোয়ালিয়া থানাধীন বর্ণালী মোড় অফিসে ভিসা প্রসেসিং-এর জন্য আসে। অফিসের সামনে অজ্ঞাতনামা একজনকে ভিসা প্রসেসিং-এর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে নামক একটি দোকান দেখিয়ে দেন। তিনি সেখানে গেলে প্রতারকরা তাকে বলে, ভিসা করতে হলে ভারতের হাসপাতালের এপয়েন্টমেন্ট লেটার-সহ বিভিন্ন কাগজপত্র লাগবে। তখন হেলাল আলী বলে,কাগজপত্র কোথায় পাবো? এ সময় দুই প্রতারক জানায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিলে তারা সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করে দিবে এবং তাদের দেওয়া কাগজপত্র ভারতের হাইকমিশনারের অফিসে জমা দিলেই ভিসা পাবেন।
তাদের কথায় সরল বিশ^াসে ভূক্তভোগী হেলাল আলী তাদের ৩ হাজার ৪০০ টাকা প্রদান করেন। কিছুক্ষন পর প্রতারকরা ভিসা পাওয়ার আবেদন ও ভারতীয় ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট লেটার-সহ অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে ভিসা অফিসে জমা দিতে বলে। পরে ভূক্তভোগী কাগজপত্র ভিসা অফিসে জমা দেন।
পরের দিন সকাল ১১ ঘটিকায় হেলাল আলী খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, প্রতারকদের দেওয়া ভারতীয় ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট লেটার জাল হওয়ায় তার ভিসা পাওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। এ সময় তিনি প্রতারকদের কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা বিভিন্ন তালবাহানা করে।
এ ব্যপারে হেলাল আলী (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান।
এ দিন দুপুর সোয়া ২ টায় বোয়ালিয়া থানাধীন বর্ণালী মোড় ঠওঝঅ ওঘউওঅঘ অফিস সংলগ্ন জঅঐগঅঘ খওঋঊ ঝঙখটঞওঙঘ’ঝ নামক দোকানে অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ এনামুল হাসান তাসিন ও মোঃ রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করেন। এসময় আসামিদের কাছ থেকে জাল এপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরির কাজে ব্যাবহৃত একটি কম্পিউটার, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার উদ্ধার হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের অজ্ঞাত ৪-৫ জনের সহায়তায় ভারতীয় ডাক্তারের জাল এপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়।
অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।