রাতুল সরকার, রাজশাহী: তীব্র শীত আর কুয়াশায় রাজশাহীতে ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষতিমুখে পড়তে পারেন কৃষকরা-এমনটি আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধানের বীজতলা ঠিকমতো না হলে জমিতে চারা রোপন করতে গিয়ে বিপাকে পড়বেন কৃষকরা। তখন বাড়তি টাকা খরচসহ ধান চাষেও বেঘাত ঘটবে। ফলে বীজতলা ঠিক রাখতে কৃষকরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পরেও তীব্র শীত আর কুয়াশায় পেরে উঠছেন না অনেকে। অনেকই বীজতলা এরই মধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক করিম বখশ জানান, এবার তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে ২০-২৫ দিন আগে বিজতলা তৈরী করেছেন। কিন্তু গত কয়েকদিনের তীব্র শীত এবং কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ধানের চারা গোঁজালেও প্রায় অর্ধেকের কিছু কম চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি যেগুলো আছে, সেগুলো লাল হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে তিনি ওপরে পলিথিন দিয়ে ঢেঁকে দিতে শুরু করেছেন। যেন কুয়াশা থেকে রক্ষা করা যায় ধানের চারাগুলোকে।
তিনি আরও জানান, যাদের বীজতলা এরই মধ্যে ঠিকঠাক মতো হয়ে গেছে, তাঁরা তীব্র শীতের কারণে বোরো ধান চাষ শুরু করতে পারছে না। রাজশাহীতে যে পরিমাণ শীত বিরাজ করছে, তাতে এখন ধানের চারা জমিতে রোপণ করার পরে সেগুলো বেড়ে উঠতে সমস্যা হবে। শীত না কমলে জমিতে চারা রোপণ করলে মারা যাবে। তাই এখনো তেমন ভাবে ধান চাষ শুরু হয়নি রাজশাহীতে।
পবা উপজেলার কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘শীত আর কুয়াশায় ধানের চারা (বীজতলা) নষ্ট হয়ে য্যাচ্ছে। মরা শুরু হয়ে গেছে অনেকের চারা। আমারও অনেক চারা মরে গেছে। এমন আবহাওয়া থাকলে ধান চাষ করতে সমস্যায় পড়তে হবে। খরচও বাড়বে। চারা মরে গেলে কিনতে হবে। তখন বাড়তি ট্যাকা লাগবে। এবার এমনিতেই ধান চাষে খরচ বাড়বে। আবার চারা ঠিকমতো না হলে আরও খরচ বাড়বে।’
এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এবার রাজশাহী জেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৮৭ হেক্টর জমিতে ধানের বীজ রোপন করা গেছে। এবার বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২০০ হেক্ট জমিতে। কিন্তু তৈরী হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে। গত বছর রাজশাহীতে রাজশাহীতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল ৬৫ হাজার ৮৩৪ হেক্টর জমিতে। সেখান থেকে ধান উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, ‘শীত ও কুয়াশায় এখনো তেমন ক্ষতি রাজশাহীতে হয়নি। তবে ক্ষতি রোধে কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেঁকে দেওয়া এবং রাতের বেলায় টিউবওয়েলের গরম পানি ছিটিয়ে দিতে বলা হচ্ছে। তাতে তীব্র শীত এবং কুয়াশার হাত থেকে রক্ষা পাবে বীজতলা।’