দুপচাঁচিয়া(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ শীতের তীব্রতা বাড়ায় দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ঘণ্টায় ১৬জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসার জন্য অন্তঃবিভাগে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তিকৃত রোগীরা সরকারি বরাদ্দের ডায়রিয়ার স্যালাইন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ডিসেম্বর সকাল থেকে ২৬ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১৬জন ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। ভর্তিকৃত রোগীরা সরকারি বরাদ্দকৃত ডায়রিয়ার স্যালাইন পাবার কথা। কিন্তু একজন রোগিও ডায়রিয়ার কোনো স্যালাইন না পেয়ে দোকান থেকে কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তালোড়া পৌর এলাকার খাড়িয়া নিশিন্দারা গ্রামের আনোয়ারা বেগম(৭০) ও উপজেলার কাথহালী গ্রামের রাবেয়া বেগম(৪৫) জানান, দুইদিন হলো তারা ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদেরকে কোনো স্যালাইন সরবরাহ করা হয়নি। বাধ্য হয়েই তাদেরকে বাহির থেকে স্যালাইন কিনতে হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স(অন্তঃবিভাগের ইনচার্জ) উম্মে কুলসুম জানান, হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত ডায়রিয়ার স্যালাইন রোগীদের মাঝে প্রদানের কারণে দুইদিন আগে তা শেষ হয়ে যায়। দু-একদিনের মধ্যে জরুরী ব্যবস্থায় ডায়রিয়ার স্যালাইন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা পেলে এ সংকট থাকবে না। তিনি আরও বলেন, বছরের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গিয়েছিল। তখন বরাদ্দকৃত স্যালাইন বেশি লাগাই বর্তমানে এ সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামছুন্নাহার জানান, এ উপজেলা ছাড়াও পাশের আরও ৪/৫টি উপজেলা থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা আসেন। এ কারণে বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় সংকট দেখা দেয়। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা মহোদয়কে অবহিত করলে তিনি তার মজুদ থেকে কিছু স্যালাইন বরাদ্দ করে থাকেন। বছরের শেষ তাই আগামী বছরের প্রথম সপ্তাহে পর্যাপ্ত পরিমানে ডায়রিয়ার স্যালাইন সরবরাহ হবে। তখন এ সংকট থাকবে না।