রাতুল সরকার, রাজশাহী: রাজশাহীতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কম খরচে লাভ বেশী হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে এই পদ্ধতিতে সবজির চাষ শুরু হয়েছে। সবজি চাষিরা জানিয়েছেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগিতা করছে। মালচিং হল মূলত বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির ফলন হয় বেশি। উৎপাদন খরচ কম হয়। কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। শুধু তাই নয়, উৎপাদিত সবজির দাম ভালো মেলায় উৎসাহিত হচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রায় সব সবজি উৎপাদনের সময় ব্যবহার করা হয় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষি বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তেমনই একটি গবেষণালব্ধ পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি হল মালচিং।
জানা গেছে, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে গোদাগাড়ী উপজেলায় গত ৪ বছর থেকে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপান করা হচ্ছে। প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে কৃষকরা সবজি উৎপাদন করে লাভবান হয়েছে।
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, প্রথমে ইন্টারনেটে দেখে আগ্রহ হয়। পরে কৃষি অফিসারের পরামর্শে এই পদ্ধতি কাজ লাগিয়ে সুফল পেয়েছি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে পরিমাণ মতো জৈব খাবার দিয়ে জমি প্রস্তুত শেষে সারি তৈরি করা হয়। সেই মাটির সারি গুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সারিগুলোর নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ফুটো করে সবজির চারা রোপণ করা হয়। দুটো সারির মাঝখানে ছোট্ট একটি নালা রাখা হয় প্রয়োজন মতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন করার জন্য। চারা রোপণের পর থেকে শুধুমাত্র দেখভাল করা ছাড়া আর তেমন কোনও পরিচর্যা করতে হয় না।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, মালচিং পদ্ধতি কৃষি কাজের অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি। গত তিন বছর যাবৎ এই উপজেলায় এই পদ্ধতিতে প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। নতুন ভাবে পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের এটি করা হচ্ছে। এটি করে কৃষকরা খুবই লাভবান হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আগাছা ও রোগবালাই কম হয়। বিশেষ করে মাটির আদ্রতা সংরক্ষণ হয় ফল সেচ কম লাগে। মালচিং এ উৎপাদিত স্টবেরী, টমেটো, তরমুজ,শসা এসব ফলের কালার খুবই আকর্ষনীয় ও মাটির যে পুষ্টিগুণ তা পুরোপুরি থাকছে। আশা করা যায় আগামীতে এই পদ্ধতি আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রাজশাহীজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচলক মোজদার হোসেন বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় ২৯ হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষ হয়েছে। আগামীতে এর সম্প্রসারণ আরো বেড়ে যাবে বলে জানান।