বিভাগীয় সমাবেশ সামনে রেখে ঢাকার নয়াপল্টনে জড়ো হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে মকবুল হোসেন (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নয়াপল্টন থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১ জনকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, নয়াপল্টনের সংঘর্ষে আহত বেশকয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে মকবুল মারা গেছেন।
জানা গেছে, ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশকে ঘিরে দুদিন ধরে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছিল কয়েক শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। আজও সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকে। বেলা ৩টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ শুরু করে। বিএনপি নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জবাব দেয়। শুরু হয় দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় স্পেশাল বাহিনী সোয়াতও। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
পুরো নয়াপল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের লাগাতার টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপে টিকতে না পেরে পিছু হটে বিএনপি নেতাকর্মীরা। আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় তারা। এদিকে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে বেশকয়েকজন ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন- তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা আলদীন, জুয়েল, আরিফ, নিয়াজ মোরশেদ। তাদেরকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান শরিফ এর নাম জানা গেছে।
এর আগে বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা মহানগরী গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে জড়ো হতে থাকেন রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সকালে থেকেই বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় আরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।