রাতুল সরকার, রাজশাহী: রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে আশপাশের জেলার রাজশাহীগামী সকল গাড়ী ও মাইক্রোবাস থামিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাবেশে যাওয়ার পথে পথে পুলিশী তল্লাশী, বাধা সহ নানা হয়রানী শিকার হতে হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে আগামী শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে গণসমাবেশ করবে বিএনপি। সরেজমিনে দেখা যায়, সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই বুধবার রাতে নগরীর মাদ্রাসা মাঠে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। ফায়ারা সার্ভিস মোড় ও মুক্তমঞ্চ শাহ মখদুম ঈদগাহ রোডে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের মধ্যে বড় একটা অংশই নারী ও বয়স্ক লোক ছিল। সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। সমাবেশেকে ঘিরে মাদ্রাসা মাঠ এলাকা এখন উৎসবের আমেজ।
আসার পথে নানা বাধার সম্মুখীন হলেও যেন নিমিষেই তা শান্তিতে পরিণত হয়েছে নেতাকর্মীদের। বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের প্রাণ চাঞ্চল্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে আশপাশের এলাকায়। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও আগতদের মেহমানদারি করতে পার করছেন বাড়তি ব্যস্ততা। রাতভর নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল সংলগ্ন এলাকাতেই অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
বগুড়ার রমাজান আলী (৫৫)নামের এক বিএনপি নেতা বলেন, বগুড়া থেকে রওনা হওয়ার পর থেকেই পুলিশের বাধা শুরু। রাজশাহীর মোহনপুরে সে পুলিশ পুরো বাস আটকে দেয়। বাস আর এদিকে আসবে না বলেও জানিয়ে দেন পুলিশ। আমাদের বাস ছাড়াও ২০/২৫টা বাস সেখান থেকে ঘুরে দিয়েছে। পরে নিরুপায় হয়ে যে যার মতো সমাবেশস্থল মুখে ছুটে পড়ে। অনেকেই হেঁটেই রওনা দিয়েছেন।’
রাত ৯টার দিকে ‘বুধবার বিকেলে রিজার্ভ বাস নিয়েই বগুড়া রওনা দিয়েছিলেন মাহবুবুর রহমান। রাজশাহীতে আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় বাধার সম্মুখীন হই, নগরীর বায়া বাজারে পুরো বাস আটকিয়ে দেয় এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। পরে রাজশাহী থেকে নেতাকর্মীরা গিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্কের পরেও বাসটা ঢুকতেই দেয়নি। পরে পায়ে হেটে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গন্তব্যে এসেছি।’
এদিকে, বুধবার রাতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের জায়গা তৈরি করে দিচ্ছিলেন বিএনপির মহানগর কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘সমাবেশকে বানচাল করার জন্য পুলিশসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের সব বাধা অতিক্রম করে বিএনপি নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। পুলিশ তাদের কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছে না, রাস্তায় পথে পথে তাদের আটকিয়ে দিচ্ছে। তবে যে কোনোভাবেই হোক সমাবেশ সফল হবেই বলে দাবি এই বিএনপি নেতার।’
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সহকারী পুলিশ কমিশনারদের নিটক জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন, তাই তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি।