আবারো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের দাবি একটাই, শেখ হাসিনাকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। শনিবার (১২ নভেম্বর) ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে এ গণসমাবেশ শুরু হয়।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সমাবেশে যেতে পুলিশ বাধা দেয়। আওয়ামী লীগ নাকি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে! ভূতের মুখে রাম নাম। তাদের গণতন্ত্র মানে গুম, খুন, মামলা, হামলা করা। তাদের এত ভয় কেন?’
সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, গণতন্ত্র আপনারা শেষ করে দিয়েছেন। কিন্তু এবার আর তা হবে না। মানুষ জেগে উঠেছে। এবার আর রাতের ভোট হবে না।’
তিনি বলেন, আজকে চারদিকে দুর্নীতি আর দুর্নীতি। কমিশন ছাড়া কোনো কাজ হবে না। তারা বলে দেশ এখন মধ্য আয়ের দেশ। কারা মধ্য আয়ের মানুষ হয়েছে? যারা চুরি করেছে, দুর্নীতি করেছে, সরকারের লোক তারা। এর বাইরে সাধারণ মানুষ কিছু পায়নি। তারা বলেছিল বিনা পয়সায় কৃষককে সার দেবে। দিতে পারেনি। এখন টাকার জন্য কৃষক সার কিনতে পারছে না। কৃষকরা আর কৃষিকাজ করতে চাইছে না। বাধ্য হয়ে তারা দিনমজুরের কাজ করছে। কেউ রিকসা ভ্যান চালাচ্ছে। শিক্ষিত যুবকরা কাজ পাচ্ছে না। তারা এখন বাধ্য হয়ে মোটর বাইক চালাচ্ছে, হকারের কাজ করছে। আমরা বলছি, ক্ষমতায় গেলে এই তরুণদের ভালো চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, ফরিদপুরে সমাবেশের আগে তিন দিন ধরে পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পথে পথে তল্লাশি করা হয়েছে। এই হলো আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র। এতো ভয় কেনো? ভয় হলো, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজকে আলেম উলামাদের হয়রানি করছে। জেলে ঢুকিয়েছে। গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে চার বছর ধরে জেলে ঢুকিয়ে রেখেছে।
ফখরুল বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের হোতা আওয়ামী লীগ। ৯৬ সালে তারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা লগি-বৈঠা নিয়ে মানুষ খুন করেছে।
তাদের অবস্থা হলো-আমরা ক্ষমতা ছাড়ব না, তোমরা যে যাই বলো আমি সোনার হরিণ চাই। এটা আর হবে না। এটা আর হবে না। মার খেতে খেতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর পিছনে যেতো পারব না।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই স্বাধীনতাকে ধ্বংস করেছে। আজকে নতুন করে সেই স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, সাবেক এমপি ও বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নৈয়াজ খৈয়ম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো: আবু জাফর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নৈয়াজ খৈয়ম, তাবিথ আউয়াল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুর রহমান পটু, শরিয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সরদার নাসিরুদ্দিন কালু, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক, তাঁতীদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন প্রমুখ।
পর্যায়ক্রমে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ।