আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভোট চুরি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে খেলা হবে।’ এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ হারাতে পারবে না। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সম্মেলনে কত লোক হয়েছে, তার খবর নিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেবের খবর কী? তিনি টাকার গুদামে ঘুমিয়ে আছেন। ঢাকা জেলা সম্মেলনে কত লোক হয়েছে, খবর নেন। মিটিংয়ে যদি থাকুন, ঢাকার ছবি দেখুন। আমাদেরটা দেখুন। চট্টগ্রামের পলোগ্রাাউন্ডে শেখ হাসিনা যাবে দশ লাখ লোক দেখাবো।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির সম্মেলনে কয়েকজন লোক হয়েছে তা আমরা দেখেছি। আজকে শুধু ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনে কত লোক হয়েছে, তা আপনারা দেখে যান। এখানে আমাদের নেত্রী নেই। তারপরও কত লোক হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রংপুরে একটা সমাবেশ হচ্ছে। কত রঙ্গ দেখাইলা রে জাদু। রঙ বেরঙ্গের নাটক। তিন দিন আগে রংপুর এসে সবাই শুয়ে আছে। বাড়ির ছাদের উপর, গুদাম ঘরে শুয়ে আছে। ফখরুল সাহেবের খবর কী? আমাদের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ছবি দেখুন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে, খেলা হবে, আন্দোলনে, নির্বাচনে, ভোট চুরির বিরুদ্ধে, ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, যারা ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, ভুয়া ভোটারদের বানানোর বিরুদ্ধে খেলা হবে। টাকা উড়ে মহল্লায়, টাকার খেলা হবে না। সাম্প্রদায়িক, খুনির সরকারের হাতে গণতন্ত্র নিরাপদ নয়, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও নিরাপদ নয়। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আবারো ভোট চুরি করবে, খুন করবে। গণতন্ত্র হরণ করবে। এই বিএনপি। বিএনপির সাথে জনগণ নেই। যতই নাচানাচি করেন, লাফালাফি করেন, দুবাই থেকে টাকা আসে। খোঁজ পেয়েছি। ব্যবস্থা হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে, তারা যত চেচামেচিই করুক, যত সমাবেশ করুক, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে দক্ষ প্রসাশকের নাম শেখ হাসিনা। সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। সবচেয়ে সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা। আমাদের ক্রাইসিস ম্যানেজার হচ্ছেন শেখ হাসিনা।’
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় সম্মেলনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, আইন সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, মহিলা সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি প্রমুখ।