1. nobinbogra@gmail.com : Md. Nobirul Islam (Nobin) : Md. Nobirul Islam (Nobin)
  2. bd.momin95@gmail.com : sojibmomin :
  3. bd.momin00@gmail.com : Abdullah Momin : Abdullah Momin
  4. bd.momin@gmail.com : Uttarkon2 : Uttar kon
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নকাজ, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব- তারেক রহমান প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না-জামায়াত আমির সান্তাহারে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান ভারতের সংসদ শ্রদ্ধা জানালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি দলের শীর্ষ নেতারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে: বিএনপি প্রযুক্তি খাত থেকেই ভবিষ্যৎ রচনা হবে : ড. ইউনূস বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহিংসতা বন্ধ করে কল্যাণের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়াতে চাই-ডা: শফিকুর রহমান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান বইছে উৎসবের আমেজ

শেয়ার কারসাজিতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নাম

  • সম্পাদনার সময় : মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৬৮ বার প্রদশিত হয়েছে

শেয়ার কারসাজির ঘটনায় অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের নাম জড়িয়েছে। যদিও এই সাকিবকেই শেয়ারবাজারের ভাবমূর্তি বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। ক্রিকেটার সাকিব আলোচিত শেয়ার কারসাজির হোতা সরকারের বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল খায়ের হিরোর সঙ্গে একের পর এক শেয়ার কারসাজি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তে এসব কারসাজির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর শীর্ষ ক্রেতার নামের তালিকায় সাকিবের নাম উঠে এসেছে।সম্প্রতি এমন সাত কারসাজির ঘটনায় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জরিমানা করে যে আদেশ দিয়েছে, তার চারটিতে তদন্তকালীন শীর্ষ শেয়ার কেনাবেচাকারী বিনিয়োগকারীর নামের তালিকায় সাকিব এবং তার মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংসের নাম এসেছে। যেসব শেয়ার কারসাজির ঘটনায় সাকিব আল হাসানের নাম এসেছে, সেগুলো হল- ওয়ান ব্যাংক, ফরচুন সুজ এবং এনআরবিসি ব্যাংক। এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বড় ধরনের কারসাজি হয়েছিল গত বছর। এ বছরের শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি বিডি কম অনলাইনের কারসাজির ঘটনায়ও শীর্ষ ক্রেতার ভূমিকায় ছিল সাকিবের ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংস। এ ব্রোকারেজ হাউসের মালিকানায় যৌথভাবে আছেন হিরোর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান। কারসাজির ঘটনায় বিশ্বনন্দিত এ ক্রিকেটারের নাম উঠে এলেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিএসইসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, কারসাজির ঘটনায় সাকিবের নাম যাতে আর না আসে, সে বিষয়ে সংস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যারেবিয়ান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অবস্থান করায় এ বিষয়ে সাকিব আল হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মিরপুর বিসিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের শেয়ার কারসাজি নিয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান পাপন বলেন, এটা ক্রিকেটের বিষয় না। এ নিয়ে কিছু বলার নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা  জানান, শুধু সাকিব নন, হিরোর শেয়ার কারসাজির তদন্তে চক্রের অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যাংক এনআরবিসি, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেনেপ ইনফোসিস, ফরচুন সুজ এবং সোনালী পেপার এন্ড বোর্ড মিলসসহ আরও অনেকের নাম এসেছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে শুধু হিরোর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মাতবর, স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, বোন কনিকা আফরোজ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি ডিআইটি কো-অপারেটিভকে জরিমানা করা হচ্ছে। এভাবে কারসাজির ঘটনাগুলোকে অনেকটা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। গত দুই বছরের কারসাজির ঘটনায় হিরোর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানকে গ্রীণডেল্টা ও ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের কারসাজির ঘটনায় নামমাত্র এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হিরোর বাবাকে ওয়ান ব্যাংক ও ফরচুন সুজের কারসাজির ঘটনায় সাড়ে চার কোটি টাকা, বোন কনিকা আফরোজকে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় পৌনে চার কোটি টাকা এবং ডিআইটি কো-অপারেটিভকে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও বিডিকম অনলাইন কোম্পানির শেয়ার কারসাজির ঘটনায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ওয়ান ব্যাংকের কারসাজির ঘটনায় হিরোর বাবা আবুল কালাম মাতবরকে জরিমানা করে গত ২ আগস্ট যে আদেশ বিএসইসি দিয়েছিল, সেটার কপি সম্প্রতি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ওই আদেশ থেকে জানা গেছে, ওয়ান ব্যাংকের কারসাজির ঘটনায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর সময়কালের, অর্থাৎ দুই সপ্তাহের শেয়ার লেনদেন খতিয়ে দেখতে তদন্ত করেছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। তাতে দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের শীর্ষ ১৫ ক্রেতার তালিকার আট নম্বরে ছিল সাকিব আল হাসানের নাম। ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট নামক মার্চেন্ট ব্যাংকের ১৬০৫৫৪০০৭৪১৪০৭১৯ নম্বর বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ৭৫ লাখের বেশি শেয়ার কিনে ১০ লাখ ২০ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন। একইভাবে ফরচুন সুজের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ডিএসইর করা গত বছরের ২০ মে থেকে ১৭ জুনের তদন্তকালে শীর্ষ ২০ ক্রেতা তালিকার ১০ নম্বরে উঠে আসে সাকিব আল হাসানের নাম। এ ঘটনায় শুধু উল্লিখিত সময়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মালিকানাধীন এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট নামক মার্চেন্ট ব্যাংকে খোলা সাকিবের ১৬০৪৫৩০০৬৯৫৮৫৫৭৪ নম্বর বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ফরচুন সুজের দুই লাখ শেয়ার কেনা হয়, বিপরীতে বিক্রি হয় ১৭ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি শেয়ার।

এছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ডিএসইতে তদন্তে গত বছরের ৫ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত সময়কালে এ ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ ক্রেতার তালিকার ১১ নম্বরে আছে সাকিবের নাম। এ কারসাজিতে ইস্টার্ন ব্যাংকের মালিকানাধীন ইবিএল সিকিউরিটিতে খোলা ১২০১৯৫০০৬৪৯৭৬২৩৭ নম্বর বিও অ্যাকাউন্টে ২৭ লাখ শেয়ার কিনে এক লাখ শেয়ার বিক্রির তথ্য মিলেছে। এছাড়া বিডিকম অনলাইনের কারসাজির ঘটনায় সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস মোনার্ক হোল্ডিংসের নাম এসেছে শীর্ষ ক্রেতার তালিকায়। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোনার্ক হোল্ডিংস নামক ব্রোকারেজ হাউস ছাড়াও মোনার্ক মার্ট নামক ই-কমার্স সাইটের হিরোর ব্যবসায়িক পার্টনার সাকিব আল হাসান নিজে কোনো শেয়ার কেনাবেচা করতেন না। তার হয়ে সব শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিয়েছেন হিরো। সাকিব কেবল অধিক মুনাফার লোভে কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেছেন। বিও অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে তার বিনিয়োগের সবটাই দেখবাল করেছেন হিরো। হিরো তার নিজের, স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, বাবা আবুল কালাম মাতবর, বোন কনিকা আফরোজ, নিজের মালিকানাধীন সমবায় সমিতি ডিআইটি কো-অপারেটিভের নামে শেয়ার কিনে আগে বেচে বেশি মুনাফা নিলেও সাকিবের অ্যাকাউন্টে কেনা শেয়ার পরে বিক্রি করেছেন।

যেমন ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় গত বছরের ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর সময়কালে শীর্ষ লেনদেনকারীর তালিকায় থাকা হিরোর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ থেকে ওয়ান ব্যাংকের তিন কোটি ৯৮ লাখের বেশি শেয়ার কিনে দুই কোটি ৩৩ লাখের বেশি বিক্রি করেন। এ কারসাজিতে হিরো নিজে অগ্রণী ব্যাংক ইক্যুয়িটি নামক মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে তিন কোটি ৯৬ লাখ শেয়ার কিনে বিক্রি করেন ১৬ লাখ ২৭ হাজার শেয়ার। তবে সাকিব আল হাসানের অ্যাকাউন্টে ৭৫ লাখের বেশি শেয়ার কিনে বিক্রি করেন মাত্র ১০ লাখ ২০ হাজার শেয়ার। এ বিষয়ে জানতে আবুল খায়ের হিরোর মোবাইলে মঙ্গলবার রাতে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © 2025 The Daily Uttar Kon. All Rights Reserved.
Powered By Konvex Technologies