নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত যুবদল কর্মী শাওনের কবর জিয়ারত করে তার পরিবারের খোঁজখবর নিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শাওনের বাড়িতে পোঁছেন ফখরুল। শাওনের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং আর্থিক সহায়তা করেন। ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে গতকাল আমাদের ভাই, যুবদল নেতা শাওনকে এই ফ্যাসিবাদী, গণতন্ত্রহরণকারী সরকার গুলি করে হত্যা করেছে। শাওনের এই আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভোলায় ছাত্রদল নেতা নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। দীর্ঘ একযুগ ধরে এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে, রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে, প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এর প্রতিবাদে কথা বলা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’ ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছে শাওন। তিনি যুবদলের কর্মী। এর চেয়ে বড় পরিচয় তিনি এদেশের একজন নাগরিক। তাকে পুলিশ এভাবে গুলি করে মারতে পারে না।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারি, আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই উচ্ছৃঙ্খলভাবে নয়, শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’ পুলিশকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শত্রু নয়, আপনারা কারও হুকুম পালন করবেন না।’ ফখরুল বলেন, ‘শাওন যুবদলের কর্মী নয় বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেতো একজন মানুষ। তাকে কেন হত্যা করা হলো? নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।’ এসময় বিএনপি মহাসচিব নিহত যুবদল কর্মী শাওনের করব জিয়ারত করেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিএনপি সংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলসহ স্থানীয় নেতাকর্মী।