স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় নাকাল পাকিস্তান। টানা বৃষ্টি আর এতে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির কমপক্ষে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯৮০ জন। শনিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষত খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানসহ সারা দেশে অন্তত ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১৫ জন। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রেহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।’ জুন থেকে অব্যাহত মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় ইতোমধ্যে বৈরী আবহাওয়ার রেকর্ড ভেঙেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। জলবায়ুমন্ত্রী শেরি বলেন, ‘পাকিস্তান এখন তার অষ্টম মৌসুমি চক্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও দেশে সাধারণত তিন থেকে চার চক্রে বৃষ্টি হয়।’ এ পরিস্থিতিতে সংকট কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ইসলামাবাদ। জাতিসংঘের দুর্যোগ ত্রাণ সংস্থা- ওসিএইচএ বলছে, চলতি গ্রীষ্মে একাধিক বর্ষাচক্র পাকিস্তানে আঘাত হেনেছে। এতে বড় বন্যার কবলে পড়েন বাসিন্দারা। পাকিস্তানজুড়ে চার লাখের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অবস্থান নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল বলছেন, কমপক্ষে তিন কোটি মানুষ, যারা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন বন্যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিন্ধু প্রদেশ। দক্ষিণের প্রদেশটিতে চলতি বছর আগস্টের গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় আট গুণ হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাস্তুচ্যুতদের জন্য ১০ লাখ তাঁবু চেয়েছে বলে জানিয়েছেন জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রেহমান। সিন্ধুর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা এক নারী বলেন, ‘মাটির ঘরের ছাদ ফুটো হয়ে যাওয়ায় বাচ্চাদের নিয়ে রিকশায় বসবাস করছি। ‘আমরা কোথায় যেতে পারি? নর্দমাগুলো উপচে পড়ছে, উঠান আবর্জনায় ভরে গেছে। বাড়িঘর ও রাস্তাগুলো ভাসমান আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে।’ সূত্র : এক্সপ্রেস নিউজ ও অন্যান্য